ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই সংবিধান সংশোধন হবে: ডা. জাহিদ

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই সংবিধান সংশোধন হবে: ডা. জাহিদ

নিউজ ডেস্ক: সংবিধান সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধন হবে। এ সময় বিরোধী দলকে গোঁয়ার্তুমি ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভাষা বোঝার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীন না হলে কিংবা মুক্তিযুদ্ধ না হলে হয়তো গ্রামের সাধারণ মানুষের মতো নদীর পাড়ে মাছ ধরে দিন কাটাতে হতো। একটি পতাকা, একটি ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। সংবিধান সংশোধনযোগ্য, কারণ মানুষের জীবন স্থির নয়, গতিশীল। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ ও প্রতিফলিত করার নামই সংবিধান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি, এখন তা বেড়ে প্রায় ১৮ কোটি হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া, মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সময়ের প্রয়োজনে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হলে সংবিধানে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তবে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি স্বল্পতম সময়ে সংবিধান রচনা ও গ্রহণ করেছিল, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের সব কমিটিতে তারা নাম দিলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দিচ্ছে না। এটা কেমন গোঁয়ার্তুমি? রাষ্ট্র কোনো অভিমান নিয়ে চলতে পারে না। জনগণের চেয়ে বড় কোনো সার্বভৌম শক্তি নেই। সংসদে গিয়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গুপ্ত রাজনীতি ও সুযোগ সন্ধানীদের বিষয়ে সতর্ক করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, পরিচয় গোপন করে অন্যের ক্ষতি করা মুনাফেকি। ২০২৫ সালের দুর্গাপূজার সময় যারা পাহারার কথা বলে পরে আর খোঁজ রাখেনি, তারা সুযোগসন্ধানী। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের মানসিকতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। এতে বলা হয়, ৪ নভেম্বর মহান সংবিধান দিবস। লক্ষ প্রাণের রক্তে রঞ্জিত এ দেশের সংবিধান জনমতের দলিল, যার প্রকৃত মালিক জনগণ। ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত এ সংবিধানকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিহত, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস নির্মূলের পাশাপাশি লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান এমপি, অধ্যাপক আবু সাঈদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না , সিনিয়র এডভোকেট জগলুল হায়দর আফ্রিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৌফিক এহেসান প্রমুখ।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular