নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন জনপদ চর আব্দুল্লাহতে ভ্রমণে গিয়ে নারী ও শিশুসহ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। শুক্রবার বিকেলে ট্রলারে করে চরটি দেখতে গেলেও বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল নদী ও তীব্র ভাটার কারণে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও আটকে পড়া পর্যটকদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক অবকাশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক মানুষ ট্রলারে করে চর আব্দুল্লাহ ভ্রমণে যান। বিকেলের দিকে আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে এবং নদীতে তীব্র ভাটা শুরু হলে তাঁদের বহনকারী ট্রলারগুলো নিরাপদে তীরে ফিরতে পারেনি। পরে পর্যটকেরা চরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নদীতে ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকারী নৌযান চরের কাছাকাছি যেতে পারছিল না। এতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তাঁদের স্বজনেরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চর আব্দুল্লাহ মেঘনার একটি দুর্গম ও নদীবেষ্টিত এলাকা। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে সেখানে যাতায়াত করতে হয়। ভাটার সময় নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় ট্রলার বা নৌকা সহজে চরের কাছে যেতে পারে না। শুক্রবার সন্ধ্যার পর নদীর পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে পড়ায় পর্যটকেরা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে বৈরী আবহাওয়া ও নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পর্যটকেরা চরেই অবস্থান করছিলেন এবং তাঁদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকানিউজ/নাজ/24




