ঢাকা  বুধবার, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্যে মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনে সুস্থ শিশুর জন্ম

যুক্তরাজ্যে মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনে সুস্থ শিশুর জন্ম

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো একজন মৃত দাতার জরায়ু ব্যবহার করে সফলভাবে মা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন গ্রেস বেল নামের এক ব্রিটিশ নারী। লন্ডনের ‘কুইন শার্লট অ্যান্ড চেলসি হসপিটাল’–এ জন্ম নেওয়া এই শিশুটির নাম রাখা হয়েছে হিউগো পাওয়েল, যার ওজন ৬ পাউন্ড ১৩ আউন্স।

ব্রিটিশ চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ঘটনা পুরো ইউরোপে এর আগে মাত্র দুবার ঘটেছে। জন্মগতভাবে জরায়ুহীন এক নারীর মা হওয়ার এই ঘটনাকে তার পরিবার ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পেশায় আইটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার গ্রেস বেল ‘মেয়ার রকিটানস্কি কুস্টার হাউসার সিন্ড্রোম’ নামক এক বিরল শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মেছিলেন, যার ফলে তার শরীরে জরায়ু গঠিত হয়নি। কৈশোরে চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না। তবে ২০২৪ সালে জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর উন্নত প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে হিউগোর জন্ম হয়।

গ্রেস বেল আবেগপ্লুত হয়ে জানান যে, এক অজ্ঞাতপরিচয় দাতা নারীর মহানুভবতা ও তার পরিবারের নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্তের কারণেই আজ তার আজীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ওই একই দাতা নারীর অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আরও চারজন ব্যক্তির জীবন বেঁচেছে।

এই সফল অস্ত্রোপচার ও প্রজনন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক রিচার্ড স্মিথ, যিনি ‘ওম্ব ট্রান্সপ্লান্ট ইউকে’ চ্যারিটির ক্লিনিক্যাল লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্রেস ও তার সঙ্গী স্টিভ পাওয়েল তাদের সন্তানের মাঝের নাম রেখেছেন রিচার্ড।

অধ্যাপক স্মিথ এই সাফল্যকে দীর্ঘ বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গ্রেস বেল যদি আর সন্তান নিতে না চান, তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই জরায়ুটি তার দেহ থেকে সরিয়ে ফেলা হবে যাতে তাকে সারাজীবন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে রাখার ওষুধ বা ‘ইমিউনোসপ্রেসেন্ট’ গ্রহণ করতে না হয়।

বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মৃত দাতার জরায়ু ব্যবহার করে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত জরায়ু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশই জীবিত দাতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অঙ্গদানের সাধারণ নিয়মের আওতায় জরায়ু দান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না; দাতা আগে থেকে সম্মতি দিয়ে রাখলেও মৃত্যুর পর পরিবারের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিশেষ অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

গ্রেস বেলের এই দৃষ্টান্ত যুক্তরাজ্যে জরায়ু প্রতিস্থাপন ও প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে, যা ভবিষ্যতে এই সমস্যায় ভোগা অন্য নারীদের জন্যও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular