নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা ‘এলিট টাওয়ার’ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বুধবার বিকেলে নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।
বুধবার বিকেলে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় জমি পরিমাপ করেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়ক-সংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা ‘এলিট টাওয়ারের’ সীমানার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিমাপ শেষে তিনি তাৎক্ষণিক ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় কাজ চালালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন ওই ভবনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট রেলওয়ের মূল্যবান সম্পত্তি দখল করে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করছে– এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনোভাবেই কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিন তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নকশা ও জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরের মুসলিম ভাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন দাবি করেন, সব নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে ১৮ তলা ভবনটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ‘এলিট টাওয়ার’ নির্মাণের নকশা অনুমোদন করানো হয়। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর সম্প্রতি হঠাৎ করে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে অনিয়মের গুঞ্জন উঠেছে। নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



