ঢাকা  বুধবার, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়লালবাগ ভূমি অফিসে দালালচক্রের খবরের প্রতিবাদে শেখ আনোয়ার, বক্তব্যে অসংগতি—নতুন প্রশ্ন

লালবাগ ভূমি অফিসে দালালচক্রের খবরের প্রতিবাদে শেখ আনোয়ার, বক্তব্যে অসংগতি—নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন ভূমি অফিসগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক শেখ আনোয়ার। 

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৫:১০ মিনিটে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার অনলাইনে তার দেওয়া প্রতিবাদলিপিতে একাধিক অসংগতি ও স্ববিরোধী বক্তব্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৯ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, শেখ আনোয়ারের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জনের একটি চক্র ভূমি অফিসের সামনে অবস্থান করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে দালালি করছে। তাদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও চাপে পড়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে শেখ আনোয়ার দাবি করেন, সংবাদটি সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পারভেজ, রাসেল, রিয়াজ, সুমন, সাইফুল, রাশেদ ও জসিম নামের ব্যক্তিরা ওই ভূমি অফিসে কাজ করেন। তার দাবি, তারা দালাল নন; বরং এসি ল্যান্ডের “আন-অফিসিয়াল পিয়ন”।

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি দপ্তরে “আন-অফিসিয়াল পিয়ন” নামে কোনো স্বীকৃত পদ নেই। ফলে শেখ আনোয়ারের এই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি অফিসের সামনে দীর্ঘদিন ধরে যেসব অনানুষ্ঠানিক ব্যক্তি বিভিন্ন কাগজপত্রের কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে ঘোরাফেরা করেন, তাদের মাধ্যমেই সাধারণত দালালচক্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রতিবাদলিপিতে শেখ আনোয়ার আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিক ঈদ উপলক্ষে ভূমি অফিসে কর্মরতদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা চেয়েছিলেন। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। এ কারণে অনেকেই এটিকে “অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ” হিসেবেই দেখছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ভূমি অফিসের একটি সূত্রের দাবি—শেখ আনোয়ার একটি ভুয়া সাংবাদিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজে তদবির করেন এবং অনেক সময় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তদবির না শুনলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে প্রতিবাদলিপিতে এ অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

প্রতিবাদলিপিতে শেখ আনোয়ার নিজেকে জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা-এর সহ-সম্পাদক এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সদস্য দাবি করে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানান।

তবে বিষয়টি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, একটি জাতীয় দৈনিকের সহ-সম্পাদক পদমর্যাদার একজন সাংবাদিক কেন প্রায় প্রতিদিন ভূমি অফিস এলাকায় সময় কাটান—এ বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। অনেক সেবাগ্রহীতার দাবি, ভূমি অফিসে কাজ করতে আসা মানুষদের সঙ্গে কথা বলা, কাগজপত্রের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাকে নিয়মিত দেখা যায়।

এ ছাড়া প্রতিবাদলিপিতে যাদের নাম উল্লেখ করে তিনি “আন-অফিসিয়াল পিয়ন” বলেছেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভূমি অফিসে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসের ভেতরে বা বাইরে কিছু লোকের মাধ্যমে কাজ না করালে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে ঘুরতে হয়। তাদের দাবি, এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণেই দালালচক্রের অভিযোগ বারবার সামনে আসে।

এদিকে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে দালালচক্রের অভিযোগ ও প্রতিবাদের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular