নিউজ ডেস্ক: শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি, ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জারি করা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠন হতেই সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন করা হবে।
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ। তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মাদরাসাটির আজীবন দাতা সদস্য মুহা. আতাউর রহমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে কর্মরত থাকার পাশাপাশি ফাজিল ও কামিলের জাল সনদ ব্যবহার করে আরও চারটি বেসরকারি মাদরাসায় চাকরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। কর্মসূচি ঘোষণা এবং কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ গত ১৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব, ডিআইএর পরিচালক এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের একজন পরিদর্শককে দিয়ে তার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাদরাসা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এর আগেও ডিআইএ অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত করেছিল। সেই তদন্ত তিনি দুই বছর আটকে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেগুলো যদি মিথ্যা হয়, তবে তদন্তে সমস্যা কোথায়? তিনি শিক্ষকদের ভুল বুঝিয়ে শিক্ষায় অস্থিরতা তৈরির পায়তারা করছেন।



