নিউজ ডেস্ক: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমানের উন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কনভেনশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের উদ্যোগে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা রূপান্তরে বিশ্বাসী। আমরা শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ ন্যায্য হিস্যা চাই। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।
তিনি বলেন, শ্রমিকের রক্তের দাগ রাজপথে লেগে গেছে। ফলে মজুরি বোর্ডের ওপর শ্রমিকের রক্তের দায় তৈরি হয়েছে। এ দায় শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এর যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শ্রমিক অধিকার আদায়ে সংগঠনগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় না। এর জন্য রাজপথে, আলোচনার টেবিলে এবং গণমাধ্যমে লড়াই করতে হয়। বিভিন্ন মত ও পথের শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভক্তি নয়, ঐক্যই শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।
কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আশির দশক থেকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। এ শিল্পের শ্রমিকেরা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। অথচ তাঁদের ন্যূনতম মজুরির ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে রক্ত ঝরাতে হচ্ছে।মানচিত্র দেখুন
২০২৩ সালের শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই বছর গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে চার শ্রমিক নিহত হন। আবারও একই দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তৌফিক শেখকে জীবন দিতে হয়েছে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আর কত শ্রমিককে প্রাণ দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শ্রমিককে তৌফিক শেখের মতো জীবন দিতে না হয়।
দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে আতিকুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অস্বাভাবিক বাড়িভাড়ার কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিল্পাঞ্চলে সরকারি উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা ও রেশনিং চালু করতে হবে। ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আক্তার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক সংহতির সভাপতি রুহুল আমীন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শহীদ, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তারসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশন ও সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, সম্মানজনক জীবনমান, আবাসন, রেশনিং ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।



