নিউজ ডেস্ক: তাওহীদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ভর করে ৩৮৬ রানে থেমেছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। জবাবে খেলতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করে দিনের খেলা শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিং ৫ ও জশুয়া ডি সিলভা ২ রান করে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন।
একসময় ১০০ রানের বেশি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে হৃদয় যেভাবে ইনিংস বড় করেছেন, তাতে শুধু দলকে বিপদ থেকেই উদ্ধার করেননি, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ডও। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার। এর আগে রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের, ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ২১৯ রান।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন ২৯ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় দিন শেষ করেছেন ২৪২ রানে। অর্থাৎ এক দিনেই যোগ করেছেন ২১৩ রান। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের এক দিনে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও এখন তার। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
শুধু ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড নয়, ছক্কার হিসাবেও অনন্য জায়গায় পৌঁছেছেন হৃদয়। তার ২৪২ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা। টেস্টের এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা আছে কেবল ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সোয়ালের, দুজনেরই ১২টি করে। ১১ ছক্কার কীর্তি আছে আরও ছয় ব্যাটসম্যানের।
হৃদয়ের এই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন লেজের ব্যাটসম্যানরাও। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গড়া ১১৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত এনে দেয়। তাইজুল ২২ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়।
তাসকিন আহমেদের বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ২৯ বলে দুই চারে ১২ রান করেন তাসকিন। তার বিদায়ে ভাঙে ১২১ বল স্থায়ী ৮৫ রানের জুটি। চোটের কারণে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি সাদমান ইসলাম। ফলে ৩৮৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৩৫৯ বলে ১১ ছয় ও ২২ রানে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন অসংখ্য রেকর্ড গড়া হৃদয়।



