মো: জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার মৌলভীবাজার : কাকিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বর্ণিল সাজে শ্রীমঙ্গলে তিনদিন ব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের জীবন মান নিয়ে “হারমোনি ফেস্টিভ্যাল” উদ্বোধন করা হয়েছে।
১০ জানুয়ারি থেকে ১২ ই জানুয়ারি হারোমনি ফেস্টিভ্যাল শ্রীমঙ্গল কাকিয়া ছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের উদ্ধোধন করেন বিকাল ৪ টায় উদ্ধোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
বিশেষ অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সচিব মিচ নাসরীন জাহান, বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব), সিলেট বিভাগ খান মো: রেজা-উন-নবী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএমই ফাউন্ডেশন আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার মো: ইসরাইল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এম, কে সহ প্রমুখ।
উৎসবে খাসিয়া, গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বারাইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূঁইয়া, সাঁওতাল, ওরাও, গড়াইত, মুন্ডা, কুর্মী, ভুমিজ, বুনারাজি, লোহার, গঞ্জু, কড়া জনগোষ্ঠী অংশ নিচ্ছেন।শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় তাদের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার হবে।
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিবেশনায় থাকছে যেমন, খাসিয়াদের খাড়ি নৃত্য, রিকিয়াসনদের লাঠি নৃত্য, পত্র সওরা নৃত্য ও চড়ইয়া নৃত্য, বাড়াইকদের ঝুমুর নৃত্য, কন্দদের কুই নৃত্য, রাজবল্ববদের উড়িয়া নৃত্য, ভূঁইয়াদের ভূঁইয়া গীত, সাঁওতালদের লাগড়ে নৃত্য, ওরাওদের ওরাও নৃত্য, গড়াইতদের গড়াইত নৃত্য, মুন্ডদের মুন্ডারি নৃত্য, কুর্মীদের কুরমালি নৃত্য, ভূমিজদের ভূমিজ নৃত্য, বুনারাজিদের উড়িয়া ভজন, লোহারদের ভুজপুরি রামায়ন কীর্তন, গঞ্জুদের গঞ্জু নৃত্য, কড়াদের কড়া নৃত্য, খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ডিয়া কেরছা ও মালা পরিধানের মাধ্যমে নাচ-গান, তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা, সীয়াট বাটু (গুলতি দিয়ে খেলা), কিউ থেনেং (তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রতিযোগিতা), ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাথারক নৃত্য, বেসু নৃত্য, জুম নৃত্য, গ্যারি পুজা, ক্যার পুজা, নক থাপেং মা পূজা, কাদং (রনপা), গারো জনগোষ্ঠীর জুম নৃত্য, আমোয়দেব (পুজা), গ্রীক্কা নাচ (মল্লযুদ্ধ), চাওয়ারী সিক্কা (জামাই-বৌ নির্বাচন), চাম্বিল নাচ (বানর নৃত্য), মান্দি নাচ, রে রে গান, সেরেনজিং (প্রেমকাহিনীর গান), মণিপুরী জনগোষ্ঠীর রাসলীলা নৃত্য, পুং চলোম নৃত্য (ঢোল নৃত্য), রাধাকৃষ্ণ নৃত্য, এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য প্রদর্শন করা হবে তিনদিন ব্যাপী ।
এছাড়াও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের লাইভ তাঁত, চা ও রাবার প্রসেসিং, হোমস্টে, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করা থাকছে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ



