ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকসাইমা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠালো ডব্লিউএইচও

সাইমা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠালো ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (এসইএআরও) পরিচালক সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করার কয়েক মাস পর সংস্থার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত এলো।

হেলথ পলিসি ওয়াচের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস শুক্রবার (১১ জুলাই) একটি অভ্যন্তরীণ ইমেলের মাধ্যমে কর্মীদের জানান যে, সায়মা ওয়াজেদ অবিলম্বে ছুটিতে যাচ্ছেন। তার অনুপস্থিতিতে সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বোহেম ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তার বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি এই পদে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রার্থিতার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ পদের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে এবং মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে।

দুদকের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের ভাষ্যমতে, সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো:
জালিয়াতি ও ভুয়া নথি ব্যবহার: মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ (জালিয়াতি) এবং ৪৭১ (জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার) ধারার লঙ্ঘন।
তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি সম্মানসূচক পদে থাকার যে দাবি করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। অভিযোগ করা হয়, ডব্লিউএইচও-এর শীর্ষ পদের জন্য নিজের যোগ্যতা বাড়াতেই তিনি এই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন।
সায়মা ওয়াজেদ তার ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যা তার প্রতিষ্ঠিত ‘শুচনা ফাউন্ডেশন’-এ রাখা হয়েছিল। এই তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়নি।
তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব মামলা দায়েরের পর থেকে সায়মা ওয়াজেদ স্বাধীনভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারছেন না। কারণ, বাংলাদেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।-

এই গুরুতর অভিযোগ বা সংস্থায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular