ঢাকা  রবিবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিক১৫ শতাংশ শুল্কহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

১৫ শতাংশ শুল্কহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ। তবে দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বিকল্প পথও বেছে নিয়েছেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন তিনি। আর শনিবার তা আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও কেউ এ নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। আবার ১০ শতাংশের বিষয়টি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা–ও কেউ নিশ্চিত নন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কহারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তিটি হয়ত বাতিল হয়ে যাবে। বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর বোঝা যাবে, কী হতে যাচ্ছে।

চুক্তি করতে এত তাড়াহুড়া করা হলো কেন, নির্বাচিত সরকারই তো করতে পারত, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এটা তখন স্বাক্ষর করা লাগত। আর এতে আমাদের উদ্দেশ্যমূলক কিছু ছিল না। যারা সমালোচনা করছেন, তারা তা না পড়েই করছেন। অনেকের হয়ত পড়ার যোগ্যতাও নেই।’

বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার না শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে। তবে ৯ ফেব্রুয়ারি হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেলে ভালো। বাতিল না হলে এটা নিয়ে নতুন করে ভাবার আছে। কারণ, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থহানির বহু ধারা আছে।’

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তিন মাসের জন্য সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে দেশটি এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে এবং ৮ জুলাই বাংলাদেশের জন্য হার ২ শতাংশ কমিয়ে করে ৩৫ শতাংশ। ওই বছরের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সমঝোতায় পৌঁছায় ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কে। এই ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ, যা চুক্তিতেও আছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, দুই দেশের সংসদে অনুসমর্থনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ৯ ফেব্রুয়ারির চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি। পুরো বিষয়টি নতুন করে দেখার সুযোগ আছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আরও কৌশলী হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনই এ বিষয়ে কোনো অবস্থান নিয়ে ফেলা সমীচীন হবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular