নিউজ ডেস্ক : আজ ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালন করা হচ্ছে। এই দিনটি বিশ্বের নানা স্থানে পুরুষ ও ছেলে শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা, ইতিবাচক পুরুষ রোল মডেল তুলে ধরা এবং পুরুষ ও ছেলেদের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার তাগিদ জানাতে উদযাপিত হয়।
১৯৯৯ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ইতিহাসবিদ ড. জেরোম টিলাকসিংহ (Dr. Jerome Teelucksingh) দিনটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন; তিনি ১৯ নভেম্বর তার বাবার জন্মদিন হিসেবে এবং একই দিনে দেশের ফুটবল সম্পর্কিত একটি স্মৃতিকে সম্মান জানিয়েই এই তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন। সেই থেকে এটি ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রায় ৭০–৮০টিরও বেশি দেশে পালিত হয় এবং বিভিন্ন দেশ-বাস্তবে দিবসটি নানা আকারে উদযাপিত হয়—চলিটা আলোচনা, স্বাস্থ্যশিবির, স্কুল-কলেজে কর্মশালা ও সামাজিক প্রচারণা থেকে শুরু করে পিতৃত্ব ও পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ পর্যন্ত।
প্রতিবছর দিবসটির একটি বিষয়বস্তু বা থীম থাকে; ২০২৫ সালের বৈশ্বিক থীম হিসেবে “Celebrating Men and Boys” বা ‘পুরুষ ও ছেলেদের উজ্জ্বলায়ন’ ধারাটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতিবাচক রোল মডেল প্রচার, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতা আনতে উৎসাহ দেয়।
এই দিনটি উদযাপনের পেছনে যে উদ্দেশ্যগুলো কাজ করে—পুরুষদের স্বাস্থ্যের উপর নজর দেওয়া, আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো, আসক্তি ও মানসিক উদ্বেগ মোকাবিলায় সহায়তা, পিতৃত্ব ও পরিবারের ভুমিকা শক্তিশালী করা—এসব বিষয়গুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক পর্যায়ে কথোপকথন ও কর্মসূচি আকারে আনা হয়।
এখানে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো—সমাজে পুরুষদের প্রতি প্রচলিত ধারণা প্রায়শই ‘দৃঢ়’ বা ‘অনুভূতিহীন’ হওয়া নিয়ে গঠিত; ওই মানসিকতাই পুরুষদের মধ্যে নিজের দুর্বলতা বা মানসিক কষ্ট প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস শুধু উৎসবই নয়, বরং পুরুষদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও অনুভব প্রকাশের সাংস্কৃতিক বাধা ভেঙে ফেলতে একটা গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
বাংলাদেশে ও অন্যান্য দেশে মেডিক্যাল ইউনিট, স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও-গুলো এই দিনটিকে কাজে লাগিয়ে কর্মশালা, কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালায়—যাতে পুরুষদের স্বাস্থ্য, পিতৃত্ব ও লিঙ্গভিত্তিক সম্পর্কগুলো নিয়ে বাস্তব আলোচনা বাড়ে এবং সমন্বিত সমাধান খোঁজা যায়।
শেষে বলা যায়—আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পুরুষদের প্রতি সহানুভূতি, যত্ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দিনের উদ্দেশ্য যদি মনের দরজা খুলে কথা বলা ও সহায়তা নেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়, তবে তবেই এটি সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



