ঢাকা  শনিবার, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবরিশাল১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও খুলে যাচ্ছে সুন্দরবনের দ্বার

১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও খুলে যাচ্ছে সুন্দরবনের দ্বার

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও খুলে যাচ্ছে সুন্দরবনের দ্বার। খুলনার পূর্বাঞ্চলের কটকা অভয়ারণ্যসহ পুরো সুন্দরবনজুড়ে নতুন উদ্যমে শুরু হবে জেলেদের মাছ ধরা ও পর্যটকদের আনাগোনা। এরইমধ্যে পর্যটন কেন্দ্র ও অভয়ারণ্য এলাকাগুলোতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বনবিভাগ।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদী, খাল ও বনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলে ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলও বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপাকে পড়েছিলেন হাজার হাজার জেলে ও বনজীবী।

পানিরঘাট এলাকার জেলে রুস্তম বয়াতী, বগী গ্রামের রিয়াদুল ও রাজাপুরের রফিকুল জানান, এই তিন মাস তারা প্রায় অর্ধাহারে কাটিয়েছেন। পরিবার চালাতে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা ট্রলার, জাল ও খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে সুন্দরবনে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সেক্রেটারি নাজমুল আযম ডেভিড বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বনে প্রবেশের অনুমতি মিললেও এটি পর্যটনের অফসিজন। অক্টোবর-নভেম্বর থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। এখন পর্যন্ত ৪টি জাহাজ বুকিং পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিন মাস বন্ধ থাকার পরও বনে উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত উন্নতি হয়েছে কিনা এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে কটকা পর্যটন কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। লোকসমাগম না থাকায় হরিণ, বানরসহ বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। এখন সকাল-বিকেল হরিণের দৌড়ঝাঁপ দেখা যায়।

পূর্ব সুন্দরবন শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাছ ধরা ও পর্যটকদের জন্য অনুমতিপত্র (পাস) ইস্যু শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সকল টহল ফাঁড়িকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের বরণ ও জেলেদের মাছ ধরার জন্য বন বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মৎস্য ও বনজীবীদের সহায়তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, যা এখন যাচাই করেছে মৎস্য দপ্তর। আগামী বছর থেকে জেলেরা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular