নিজস্ব প্রতিবেদক : যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা,কম্পিউটার, প্রাণিসম্পদ, যুব উন্নয়ন, মৎস,প্রশাসন, ভুমি,ইউনিয়ন পরিষদ সেবা ইত্যাদিতে সেবা দিতে সক্ষম ৩০ হাজার মানুষকে ন্যূনতম মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে যে কোন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব ব্যক্তি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হয়ে ন্যাশনাল সার্ভিস নামক একটি প্রকল্পে দুই বছর স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা দিয়েছিলো।
গতকাল বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেকার মুক্তি সমাবেশ এসব দাবি জানান বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস পরিষদ।
তারা বলেন, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে চালু করা ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’ কর্মসূচি দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়েছিল। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ৪৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলায় ২ লাখ ২৮ হাজার ১২৯ জন বেকার যুবক ও যুব নারীকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে সরকার এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বহু যুবক ও যুব নারী কর্মহীন অবস্থায় ফিরে যায়।
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলমান এই দাবিতে বেকাররা বারবার আন্দোলন করেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার বেকার যুবক-যুব নারীর অংশগ্রহণে একটি বড় আন্দোলনের আয়োজন করা হয়। এই সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, যেখানে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পুনরায় চালু করার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিশ্রুতি দেয় । এরপয
১৬ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে একটি নোটিশের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘোষণা করে যে কর্মসূচিটি পুনরায় প্রকল্প আকারে বাস্তবায়নের জন্য জরিপ করা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টপ ব্রাইট প্রা. লি. এর মাধ্যমে জরিপের কাজ শেষ হলেও ডিপিপি বাস্তবায়ন না করায় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন যে, অধিদপ্তর বারবার তাদের প্রতারিত করছে। প্রকল্প বন্ধের পর প্রায় ৩০ হাজার কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের কোন আয়ের উৎস না থাকায় তারা এখনো অসহায়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশে ৩০ হাজার বেকার যুবক- যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পুনর্বহাল করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে জানান তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আতিকুর রহমান (রাজা)। এছাড়া আরো বক্তৃতা দেন পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি এনামুল কবীর শিকদার , কুড়িগ্রাম শাখার নেতা কেএম রমজান আলী, নারজু আসমা ও তৃপ্তি রানী প্রমুখ।



