সুমন দত্ত: ফ্যাসিবাদ, হত্যা-গুম-খুন-আয়নাঘরের আঁতুড়ঘর ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের পক্ষে বিবৃতি প্রদানকারী ও জুলাই বিপ্লবের সৈনিকদের শাস্তি দাবিকারী অগ্রণী ব্যাংকের কলঙ্কিত চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ এর অপসারণ চেয়ে শনিবার (১ মার্চ ২০২৫) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে অগ্রণী ব্যাংকের ফ্যাসিজম বিরোধী নির্বাহী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বক্তারা বলেন, আমরা চরম ক্ষোভ, যন্ত্রণা ও বেদনার সাথে জানাতে চাই, আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি আজ কলঙ্কিত! অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি এর বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জুলাই-‘২৪ বিপ্লবের চেতনাকে পদদলিত করেছেন। তিনি শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তিনি তথাকথিত ২৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ধ্বংসের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন এবং বিপ্লবী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তুলেছেন। কিন্তু আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- গত ১৫ বছরে আওয়ামী দুঃশাসন, খুন, গুম, ধর্ষণ ও আয়নাঘরের নৃশংসতার বিরুদ্ধে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।
জুলাই-২৪ বিপ্লবে গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি কখনই মুখ খোলেননি। নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও শিশু হত্যার বিরুদ্ধে একটুও প্রতিবাদ জানাননি। শহীদদের প্রতি তিনি কখনোই সম্মান জানাননি, আহতদের জন্য কোনো সহানুভূতি প্রকাশ করেননি।
ফ্যাসিস্ট কর্তৃক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার পর, তিনি একটি শব্দ উচ্চারণ করেননি। আজ তিনি সুশীলতার মুখোশ পরে ন্যায়বিচারের কথা বলছেন।
তাদের প্রশ্ন, এই বিশ্বাসঘাতক কীভাবে এখনো অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন?
চেয়ারম্যানের অপসারণের যৌক্তিকতা:
১. ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার প্রতিবাদ করে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান করেছেন।
২. তিনি তথাকথিত সুশীল সমাজের নামে জুলাই’২৪ বিপ্লবের মহানায়কগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।
৩. ২০২৪-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছেন।
৪. বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট শাসনের দ্বারা নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত মানুষের ভাবাবেগে তিনি চরম ভাবে আঘাত করেছেন।
৫. ধানমন্ডি ৩২: হত্যা-গুম-খুন-আয়নাঘরের আঁতুরঘর!
৬. এই বাড়িটি ছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।
৭. জনতার ঘৃণা ও গণশত্রুর প্রতীক এই স্থাপনাকে ধ্বংস করে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা ন্যায়ের বিজয় ছিনিয়ে এনেছে অথচ এই কলঙ্কিত চেয়ারম্যান স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে আমাদের বিপ্লবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
৮. আমরা কি এই বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেব? X না!
৯. আমরা কি শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করব? X না!
১০. শুধু একজন বিশ্বাসঘাতকের জন্য কি আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান জাতির কাছে ধিকৃত হবে? ।
ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দাবি
১. এই ফ্যাসিস্টের দোসরকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২. সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অগ্রণীয়ানদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।



