ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামআইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে মব: আইনের শাসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত

আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে মব: আইনের শাসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত

প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রথমত, আইইডিসিআরের পরিচালকের ওপর হামলা একটি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এটি শুধু একজন কর্মকর্তার নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং পুরো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও কার্যকারিতার বিষয়।

দ্বিতীয়ত, এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পেশাগত নৈতিকতা ও আইন মেনে চলার গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য। চিকিৎসক সমাজের সদস্যরা যদি নিজেদেরকে আইন ও রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেন, তাহলে তা সমাজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

তৃতীয়ত, তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে, প্রশাসনকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবশেষে, আমাদের সকলের উচিত এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একসাথে কাজ করা। কারণ, আইন যদি সবার জন্য সমান না হয়, তাহলে সমাজের ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

এখন সময় এসেছে, আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ার জন্য কাজ করি।

লেখক- কলামিস্ট ও গবেষক

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular