নিজস্ব প্রতিবেদক : পাঠ্যপুস্তক থেকে আদিবাসী শব্দ লেখা গ্রাফিতি বাদ দেয়ার প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আয়োজনে এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ওই হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশি হামলারও নিন্দা জানিয়েছে উদীচী।
এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, পুলিশ ও ভুঁইফোর ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন, হামলা করে আন্দোলন দমন ছিল পতিত স্বৈরাচারের স্বাভাবিক চরিত্র। সেই দমন-পীড়ন এবং অত্যাচারী শাসনের প্রতিবাদেই জুলাই-আগস্টে রাজপথে নেমে এসেছিল আপামর জনসাধারণ। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে বিদায় নেয় ফ্যাসিবাদী সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকারও যদি সেই একই পন্থায় আন্দোলন দমনের পথে হাঁটে তবে তা হবে গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী। ছাত্র-জনতা যে লক্ষ্যে আত্মদান দিয়েছে তার সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করার সামিল হবে।
বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে বসবাসরত সাঁওতাল, ওঁরাও, চাকমা, মারমা, মুণ্ডা, ভীল, কোলসহ আরও অনেক জাতিকে ‘আদিবাসী’-এর পরিবর্তে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে, কিন্তু তাদেরকে আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়নি।
উদীচী মনে করে, হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছেন পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা এই ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা। তাই তাদেরকে আদিবাসী না বলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী বা অন্য কোন নামে অভিহিত করা অন্যায় বলে মনে করে উদীচী। একইসাথে এর প্রতিবাদে যারা রাস্তায় নেমেছেন তাদের উপর হামলারও নিন্দা জানাচ্ছে উদীচী। এই ঘৃণ্য হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান উদীচীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।



