ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশগৌরীপুরের প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে ওষুধি গুন সম্পন্ন সোনালু গাছের হলুদ ফুল

গৌরীপুরের প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে ওষুধি গুন সম্পন্ন সোনালু গাছের হলুদ ফুল

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)  প্রতিনিধি: চৈত্রের খরতাপে পুড়ে পাতা ঝরিয়ে প্রকৃতি যখন মুড়িয়ে যায় তার পরই আসে ˆবশাখ| ˆবশাখের শুরুতেই সোনালু গাছে আসেতে থাকে কলি ও ফুল| ˆবশাখের মাঝামাঝি থেকে ˆজষ্ঠের প্রথমদিকে হলুদ রং এর শোভা ছড়াতে শুরু করে সোনালু ফুল| পথে হেঁটে যেতে পথের পাশে হলুদ ফুলের শোভায় নজর কাড়ে পথিকের| সোনালু গাছে হলুদ ফুলের ঝরনা দেখে মনে হয় প্রতিটি গাছের গা থেকে হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে| সোনাঝরা এই পাঁচ পাপড়িওয়ালা ফুলের নাম সোনালু| কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুল|
 
গ্রীষ্মকালে প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে ফোটে সোনালু ফুল| হলুদবরণ সৌন্দর্যে যেন মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশের পরিবেশ| উপজেলার কলতাপাড়া, সতিশা, মমিনপুর, শাহবাজপুর, শাহগঞ্জ, বোকাইনগর, বালঅবাজারসহ বিভিন্ন রস্তার পাশে দেখা যায় এ গাছ|
সোনালু পাতাঝরা মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ| এটি আট থেকে নয় মিটার উঁচু হয়| হলুদবরণ এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি আছে তার বাহারি নামও| পরিচিত নামগুলো হলো সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি| কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস| ইংরেজি নাম- এড়ষফবহ ঝযড়বিৎ ঞৎবব, বৈজ্ঞানিক নাম- ঈধংংরধ ভরংঃঁষধ| হাজার বছর আগেও এ গাছ আমাদের উপমহাদেশে ছিল| এ গাছের সেরা বৈশিষ্ট্য হলো ঝাড় লণ্ঠনের মতো দীর্ঘ মঞ্জরি এবং উজ্জ্বল হলুদ ফুল| এ গাছের আদি নিবাস হলো ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ| সোনালু গাছ শাখা-প্রশাখা নিবিড় নয়| এর বাকল ধূসর, ম্লান এবং মসৃণ| পাতা যৌগিক, একপক্ষ এবং জোড়পক্ষ, পত্রক বড়, ডি¤^াকৃতি, বর্ণ গাঢ় সবুজ| গ্রীষ্মের শুরুতেই পাতা গজায় এবং প্রথম বৃষ্টিতে ফুল ফোটার পরপরই কচি সবুজ পাতায় শাখা-প্রশাখায় গাছ ভরে উঠে| ফুল প্রায় এক ইঞ্চি চওড়া, পাপড়ি পাঁচটি, পুংকেশর দশটি| একমাত্র স্ত্রী কেশরটি কাস্তের মতো বাঁকা, রং সবুজ, ফুল সুগন্ধযুক্ত| সোনালুর ফল এক থেকে দেড় ফুট ল¤^া, লাঠির মতো শক্ত| ফল কচি অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে কালো রঙের হয়| ফলের ভেতরের দেওয়ালে তেঁতুলের মজ্জার মতো মজ্জা থাকে| ফুল, ফল ও পাতা বানরের খুব প্রিয়| সোনালু কাঠের রং ইটের মতো লাল| ঢেঁকি, সাঁকো বানানোর কাজেও কাঠ ব্যবহার করা হয়| সোনালু গাছের বাকল এবং পাতায় ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে| এ গাছের বাকল এবং পাতার ধহঃরনধপঃবৎরধষ, ধহঃরড়ীরফধহঃ, যবঢ়ধঃড়ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব, যুঢ়ড়মষুপবসরপ, যবঢ়ধঃড়ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব গুণাগুণ রয়েছে| মহাকবি ব্যাস ও কালিদাস এই ফুলের গুণকীর্তন করেছেন|
সোনালু গাছের নয়নাভিরাম হলুদ রঙের ফুল যেমন সবার নজর কাড়ে, তেমনি এর ভেষজ গুণ শরীর ভালো রাখতেও বেশ ভূমিকা রাখে|
ব্লাডপ্রেসারে নাক দিয়ে রক্ত পরলে সোনালুর ফলমজ্জা আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে তা ছেঁকে চিনি বা মধু দিয়ে পান করলে এই সমস্যার সমাধান হয়| অন্ত্রের সমস্যায় ৪/৫ গ্রাম ফলমজ্জা ৪কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ছেঁকে সকালে ও বিকালে পান করলে সুবিধা পাওয়া যায়| কোষ্ঠ্যকাঠিন্যও দূর হয়| পস্রাবে খুব বেশি দুর্গন্ধ হলে এক চামচ সোনালু পাতার রস ৪/৫ চামচ গরম পানি মিশিয়ে খেলে সমস্যা সমাধান হয়| এই পাতা বেটে অল্প ঘি দিয়ে ক্ষত স্থানে লাগালে ক্ষতের ব্যথা দূর হয়| গলা বা ঘাড়ে ব্যথা বা লসিকা গ্রন্থিতে কোনো সমস্যা হলে মূলের ছাল বেটে লাগালে বা গরম পানিতে দিয়ে ভ্যাপার নিলে বেশ কাজে দেবে| সোনালু গাছের বাকল ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগে ব্যবহৃত হয়|
সোনালু গাছ নিজেই বেড়ে ওঠে অযত্নে অবহেলায়| নীরবে বেড়ে ওঠে, থাকেও নিষ্প্রাণ নির্ঝঞ্ঝাটভাবে| গ্রীষ্মে ফুল ফুটলে কারও সাধ্য নেই এই গাছকে এড়িয়ে যাবার| বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় এই গাছটি দেখা যায়| সৌন্দর্য বর্ধনেও এই গাছ নজরে পরে বিভিন্ন পার্কে ও রাস্তার পাশে|
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, সোনালু গাছ ভারত উপমহাদেশের একটি গাছ| এ গাছের সুন্দর হলুদ ফুল যেমন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের মন ভরিয়ে দেয় তেমনি এটি খুবই ওষুধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ| ইউনানি চিকিৎসায় এখনো এই গাছের ব্যবহার রয়েছে|

উপজেলা বন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান বলেন, সোনালু গাছ ভারত উপমহাদেশের একটি গাছ| শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ, পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে| গাছের উজ্ঝল হলুদ ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিদের আকর্ষণ করে পরাগায়নের সহযোগিতা করে| এর ফল ওষুধিগুণ সম্পন্ন এবং পশুপাখিদের খাদ্য| এগাছের কাঠও ভালো|  

 
 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular