নিউজ ডেস্ক: কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে ইউরোপীয় ব্লকটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, সদস্য করার পরিকল্পনাটি ‘হাস্যকর’ হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এটি করে, আর আমি যদি মনে করি পদক্ষেপটি শত্রুতামূলক তাহলে কঠোর শুল্ক আরোপ করবো। অথবা ইউরোপের সঙ্গে অনেক পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যদি এর উদ্দেশ্য ভালো হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে আমরা ইউরোপের ওপর খুব কঠোর শুল্ক আরোপ করব।’
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক মুখপাত্র ওলফ গিল সাংবাদিকদের বলেন, কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়। স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভাষণে প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বার্ষিক ভাষণ দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। তখন তিনি কানাডাকে ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেন। কমিশনের প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ নামে পরিচিত। এ সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভাষণে উরসুলা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে। তাই ব্রাসেলস (ইইউ সদরদপ্তর) ও অটোয়াকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে।’ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে তিনি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানির কথা উল্লেখ করেন।
মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ্য করে উরসুলা বলেন, ‘আমি ইইউ-এর প্রথম সহযোগী সদস্য হিসেবে কানাডার জন্য দরজা খুলে দিতে চাই।’ এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে কার্নিকে অভ্যর্থনা জানান। স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দ্বিতীয়দিনের পর্বে কার্নির বক্তব্য দেওয়ার কথা আছে।
উরসুলা ফন ডার লাইয়েন বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক সহযোগিতা থেকে এখন বৃহত্তর জোট-এর দিকে যাওয়ার সময় এসেছে। তাই কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করব। একটি প্রযুক্তি জোট গড়ে তুলব। প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তিগুলোকে একীভূত করব। আর্কটিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রকল্পে পরিণত করারও সময় এসেছে।
ভাষণে ইইউ-কানাডা সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেন উরসুলা। তিনি বলেন, এটি অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো অংশীদারত্ব নয়; বরং অভিন্ন শক্তির অংশীদারত্ব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে কানাডা ও ইইউ উভয়পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরত্ব বাড়িয়ে অন্য অংশীদারদের দিকে ঝুঁকতে চাইছে। এ পরিস্থিতিতে মার্ক কার্নি ইইউয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে ইইউ-কানাডা সম্মেলন হওয়ার কথা।




