নেত্রকোনার কেন্দুয়ার এক স্কুলছাত্রীকে ব্ল্যাকমেল করে ৪ বছর ধরে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগে বিএনপি নেতা বকুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ আবু মিয়া (৫০) নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন কেন্দুয়া পৌর এলাকার টেঙ্গুরী এলাকার বাসিন্দা এবং পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল (৫৫), তার সহযোগী আবু মিয়া (৫০), বকুলের মেয়ে লিমা (২১), বকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৮) ও জনৈক জনি মিয়ার স্ত্রী স্মৃতি (৩২)।
মামলার অভিযোগ ও ভূক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম বকুল সম্পর্কে ভূক্তভোগী কিশোরীর খালু হন। ২০২২ সালে ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালে বকুল তাকে পায়ের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখানোর কথা বলে সাউদপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এ সময় বকুল গোপনে ধর্ষণের দৃশ্যটি ভিডিও করে রাখেন এবং কাউকে বললে তাকে ও তার বাবাকে মেরে পানির ট্যাঙ্কিতে ভরে রাখার হুমকি দেখান।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও বহুবার তাকে ধর্ষণ করেন। শুধু তাই না, বকুল ওই কিশোরীকে ব্ল্যাকমেল করে আবু মিয়াসহ আরও একাধিক ব্যক্তিকে দিয়েও বিভিন্ন বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করান।
বকুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত স্মৃতি নামের এক নারীও এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ধর্ষণের আগে তারা কিশোরীর মুখে চেতনানাশক স্প্রে করতেন। ভূক্তভোগীর অভিযোগ, বকুল প্রায়ই তার মেয়ে লিমাকে দিয়েও তার বাসায় ডেকে নিতেন। তাই এ ঘটনায় লিমা এবং তার মা জাহানারাও জড়িত।
মামলার অভিযোগে প্রকাশ, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালে কিশোরীটি প্রথম ধর্ষণের শিকার হয়। বর্তমানে সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। অর্থাৎ গত চার বছর ধরেই তার ওপর এই নির্যাতন চলে। কিন্তু বাবাসহ তাকে হত্যার হুমকির কারণে কিশোরীটি কখনও মুখে খুলতে সাহস পায়নি।
কিছুদিন আগে ভূক্তভোগী কিশোরী চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গেলে বকুল পূর্বে ধারণ করা ধর্ষণের ভিডিও দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ফলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী ঘটনাটি খুলে বলে। পরে স্বজনরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, সে বর্তমানে ছয় মাসের অন্তসত্ত্বা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘মামলার পরপরই দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে বুধবার রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রফিকুল ইসলাম বকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে দলের সব পর্যায়ের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বকুল আমাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আবুসহ অন্য লোক দিয়েও নির্যাতন করেছে। সে সবসময় আমাকে এবং আমার বাবাকে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাঙ্কিতে ভরে রাখার হুমকি দিত। তাই ভয়ে কাউকে বলার সাহস পাইনি। সত্য প্রকাশ করায় এখন আমাকে আবারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি শাস্তি চাই।’




