ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমহাকাশের আবর্জনা সরাতে পাঁচ অভিনব উপায়

মহাকাশের আবর্জনা সরাতে পাঁচ অভিনব উপায়

বিজ্ঞান ডেস্ক: পৃথিবীর কক্ষপথে এক সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় প্রায় ১২ লাখ টুকরো আবর্জনা ভাসছে। এর যেকোনো একটি কার্যকর মহাকাশযানে বা যন্ত্রপাতিতে আঘাত করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা আবর্জনা পরিষ্কারের বেশ কিছু অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন।

আঠাল স্যাটেলাইট
মহাকাশের বেশির ভাগ আবর্জনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। তাই মহাকাশে গিয়ে এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জার্মানির একদল গবেষক টিকটিকির আঠাল পায়ের অনুকরণে একটি নতুন সমাধানের কাজ করছেন। টিকটিকির পা মূলত ভ্যান ডার ওয়ালস বলের কারণে দেয়ালে আটকে থাকে। পরমাণুর বৈদ্যুতিক আধানের দুর্বল মিথস্ক্রিয়া এর প্রধান কারণ। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা হলো, স্যাটেলাইটের বাইরের অংশে টিকটিকির পায়ের মতো কৃত্রিম আঠাল পদার্থ লাগানো, যা মহাকাশে ভাসমান আবর্জনায় শক্তভাবে আটকে যাবে। বিকল্প হিসেবে আঠাল পদার্থটি একটি মজবুত তারের সঙ্গে যুক্ত করে ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে। ঠিক যেমন গিরগিটি তার লম্বা জিভ দিয়ে দূর থেকে পোকামাকড় ধরে। এরপর স্যাটেলাইটটি সেই আবর্জনাকে টেনে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিয়ে আসবে এবং তীব্র ঘর্ষণে সেটি পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যাবে।

রোবোটিক হাত
কক্ষপথ থেকে মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহ করতে রোবোটিক হাত ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে বেশ কয়েকটি দল। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা চার হাতযুক্ত ৫০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী রোবোটিক মহাকাশযান তৈরি করছে। অকেজো হয়ে পড়া প্রোবা-১ নামের একটি স্যাটেলাইটকে ধরতে ২০২৯ সালে এটি উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।

মহাকাশ হারপুন
আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবে স্যাটেলাইটে হারপুন বা বর্শা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ২০ মিটার বেগে ছুটে গিয়ে কাঁটাযুক্ত বর্শা দিয়ে নির্দিষ্ট আবর্জনাকে বিদ্ধ করতে পারবে। ইউনিভার্সিটি অব সারের গবেষকদের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থার একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সত্যিকারের মহাকাশ আবর্জনা ধরতে এখনো এই আধুনিক বর্শা ব্যবহার করা হয়নি।

লেজার কামান
মহাকাশের আবর্জনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝামেলার বদলে সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরাসরি ধ্বংস করার কথাও ভাবা হচ্ছে। ২০১৫ সালে জাপানের একদল গবেষক নিম্ন কক্ষপথে টহল দিতে স্যাটেলাইটে ৫ লাখ ওয়াটের একটি লেজার বসানোর প্রস্তাব দেন। এটি লেজার রশ্মি দিয়ে আবর্জনাকে ধ্বংস করে ছোট ছোট টুকরো করে দেবে, যা দ্রুত পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এর একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে ২০১১ সালে নাসার গবেষণায় পৃথিবীতে বিশাল লেজার ব্যবহারের কথা বলা হয়। এটি মহাকাশের আবর্জনাকে কার্যকর স্যাটেলাইটের পথ থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেবে।

স্পেস ল্যাসো
বর্তমানে যেসব স্যাটেলাইট তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর মেয়াদ শেষে পরিষ্কারের কথা মাথায় রাখা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। জাপানের মহাকাশ সংস্থা একটি স্পেস ল্যাসো বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তার তৈরি করছে। এটি উৎক্ষেপণের আগে নতুন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্যাটেলাইটের মেয়াদ শেষ হলে ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই পরিবাহী তারটি খুলে দেওয়া হবে। তখন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের টানে এটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকবে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular