ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআইন ও আদালতগুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬: মৃত্যুদণ্ডের বিধান

গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬: মৃত্যুদণ্ডের বিধান

নিউজ ডেস্ক : গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের প্রতিকার এবং এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে ‘গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত গুম আইন-২০২৬-এ গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে অথবা পাঁচ বছরেও তাঁর সন্ধান না মিললে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনমত ও অংশীজনদের মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬-এর খসড়া উন্মুক্ত করা হয়। অর্থাৎ, এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়; মতামত ও পর্যালোচনার পর এর বিধান পরিবর্তন হতে পারে।

গুমের সংজ্ঞা ও শাস্তি

খসড়া অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের পর তা অস্বীকার করলে কিংবা তাঁর অবস্থান বা পরিণতি গোপন করলে সেটি গুম হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।

গুমের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছরেও সন্ধান না মিললে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গোপন আটককেন্দ্র ও প্রমাণ নষ্টে শাস্তি

প্রস্তাবিত গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-এ অনুমোদনহীন গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করলেও একই ধরনের শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও দায়

খসড়া আইনে ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অধীনস্থদের গুমের নির্দেশ দেওয়া অথবা গুমের ঘটনা জেনেও তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও মূল অপরাধীর সমপরিমাণ শাস্তির মুখোমুখি করার প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পিত বা ব্যাপকভাবে সংঘটিত গুমের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনেও হতে পারে।

দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ

প্রস্তাবিত আইনে গুমের মামলার বিচার দায়রা জজ আদালতে করার কথা বলা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে তা শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে; প্রয়োজনে আদালত আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগী বা পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।-

এ ছাড়া গুমের অভিযোগে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির ব্যবস্থাও খসড়ায় রাখা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular