ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়গ্যাস সরবরাহ তলানিতে, বন্ধের মুখে বহু কারখানা

গ্যাস সরবরাহ তলানিতে, বন্ধের মুখে বহু কারখানা

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাস সংকট চলছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। গ্যাস সংকটের কারণে ধুঁকছে শিল্প খাত।

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাপ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল, এলপিজি ব্যবহার করে কারখানা চালু রাখা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে কয়েক গুণ। উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে হতে পারে। বিশেষ করে অনেক ছোট কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায়।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপরেও। রাজধানী থেকে জেলা শহর; সবখানেই গ্যাসের ঘাটতিতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপ। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের পর সৃষ্ট যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এলএনজি থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও বর্তমানে তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে, যা আগে ছিল প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, তাদের দৈনিক প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে আগে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের শিল্পাঞ্চল, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার যে বিকল্প ব্যবস্থা ছিল, সেটিও এখন অচল। ফলে ডায়িং, ফিনিশিং ও আয়রনের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত, বাতিল বা মূল্য কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, তীব্র গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে দেশের ১২১টি স্পিনিং মিল উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular