আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের কাছে একটি সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে আগের তুলনায় আরও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প খসড়া চুক্তির কিছু অংশ পরিবর্তন করে তা পুনরায় তেহরানের কাছে বিবেচনার জন্য পাঠিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তবে খসড়ায় ঠিক কী পরিবর্তন করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কিছু ধারার বিষয়ে ট্রাম্প আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমালোচনা করেছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছে বলে মার্কিন সূত্রগুলো জানায়। চুক্তির খসড়া শুধু ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পরও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হলো—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়াও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। সব মিলিয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, সংশোধিত প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো এবং এমন একটি কাঠামো গ্রহণে উৎসাহিত করা, যা ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হওয়ায় নথিতে আবার পরিবর্তন আনা হলে আরও বিলম্ব হতে পারে। নথিটি একটি সমঝোতা স্মারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যতের মতো আরও বিতর্কিত বিষয়গুলো পরবর্তী দফার আলোচনায় তোলা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অ্যাক্সিওস জানায়, দুই মার্কিন কর্মকর্তার মতে ট্রাম্প এখনও আশা করছেন শিগগিরই একটি চুক্তি হবে। তবে তিনি বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও কঠোর শর্ত চান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সর্বশেষ সংশোধনের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আরও কয়েক দিন চলতে পারে।
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, ট্রাম্পকে বলা হয়েছে যে ইরানের জবাব পেতে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ওই কর্মকর্তা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তারা আক্ষরিক অর্থেই গুহায় রয়েছে এবং ইমেইল ব্যবহার করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি হবে। ঠিক কবে হবে, তা এখনই বলা কঠিন। প্রেসিডেন্ট যা চান তা নিশ্চিত করতে আমরা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। এটি এক সপ্তাহ লাগতে পারে, তার কমও হতে পারে, আবার বেশি সময়ও লাগতে পারে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই কিছু অগ্রগতি হবে।’
যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি




