ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসর্বশেষজামালপুরে পরীক্ষা দিতে এসে আটক ছাত্রলীগ নেতা আটক

জামালপুরে পরীক্ষা দিতে এসে আটক ছাত্রলীগ নেতা আটক

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) মাস্টার্সের সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে আটক ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে নাশকতার মামলায় মেলান্দহ থানা পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত ওই ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মেলান্দহ থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকাল ৫টা দিকে সমাজকর্ম বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা তাকে মেলান্দহ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা মো. মাসুদ রানা (২৬) সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখার সহ-সভাপতি। তার বাড়ী ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ক্লাসে উপস্থিত না থাকলেও তাকে বিশেষ সুবিধায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

জানা যায়, মাসুদের পরীক্ষা দিতে আসার খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক লিটন আকন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলরুমের সামনে উপস্থিত হন। তারা হলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকে বের করে দিতে বললেও তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ্ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমোদন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষার কক্ষের সামনে গিয়ে মাসুদ রানাকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান উপস্থিত হন। তারা মাসুদকে আজকের মতো পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি হননি।

প্রায় ঘণ্টাখানেক উত্তেজনার পর বিভাগের শিক্ষকরা মাসুদ রানাকে পরীক্ষাহল থেকে বের করে নিয়ে আসেন। একাডেমিক ভবনের সামনে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসে তুলে ক্যাম্পাস ছাড়ার চেষ্টা হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে একটি অটোবাইকে তুলে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে অটো থামিয়ে মাসুদকে আটক করেন। এসময় তাকে জুতার মালা পরানোর চেষ্টা করা হলেও তা প্রতিহত করা হয়। সন্ধ্যার আগে শিক্ষার্থীরা তাকে মেলান্দহ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে মঙ্গলবার পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটকের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর ড. সাদীকুর রহমান, বিভাগীয় চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ চৌধুরী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক লিটন আকন্দ, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আবদুল্লাহ আল মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়াদ ইসলাম নিয়ন, সদস্য ইফতেখায়রুল ইফতি, হুমায়ুন কবির, ছাত্রশিবির নেতা মুরসালিন ইসলাম ও ফাহাদসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত। যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয় না, সেখানে মাসুদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত ছাত্রদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের ফল বাতিল হবে। মাসুদের ক্লাসে উপস্থিতি কম ছিল, তবে কিছু শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় তাকে একটি অটোবাইকে উঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা অটো থামিয়ে তাকে আটক করে এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তার সহপাঠীরা তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান।”

মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আটক ছাত্রলীগ মাসুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আগস্ট আন্দোলনে নাশকতার মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular