প্রফেসর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
জাতির বিবেক, মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ৫ম তলার সিঁড়িতে লাল রঙে স্প্রে করে লেখা হয়েছে “বিড়ি সিঁড়ি”।
এক নির্মম ব্যঙ্গ
বাস্তবতা আরও উদ্বেগজনক—সেখানে পড়ে আছে সিগারেটের খালি প্যাকেট, অসংখ্য ফিল্টার ও ধূমপানের চিহ্ন। এটি কেবল একটি দেয়ালে লেখা শব্দ নয়; এটি আমাদের নৈতিক অবক্ষয়, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রতি এক নির্মম ব্যঙ্গ।
ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়
বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্থান, যেখানে জ্ঞান সৃষ্টি হয়, চরিত্র গঠিত হয় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্ম হয়। সেখানে যদি সিঁড়ির কোণ ধূমপানের নির্ধারিত স্থানে পরিণত হয়, তবে তা শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, বরং নতুন শিক্ষার্থীদের কাছেও একটি ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়—যেন ধূমপান একটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি।
ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়
ধূমপান শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়; এটি পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে অন্যদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থী—সকলেরই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চলাচলের অধিকার রয়েছে।
লেখাটি কে লিখল
প্রশ্ন হলো—এই লেখাটি কে লিখল? কেন এতদিন তা অপসারণ করা হলো না? নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকি কোথায়? একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালে প্রকাশ্যে এমন দৃশ্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান
আমরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানাই— অবিলম্বে এই দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলা হোক।
কলা ভবনসহ সমগ্র ক্যাম্পাসে ধূমপানবিরোধী নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
সিসিটিভি নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হোক।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও তামাকবিরোধী প্রচারণা আরও শক্তিশালী করা হোক।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল তার সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি
সেই দেয়ালে যদি জ্ঞানের বদলে ধোঁয়ার আমন্ত্রণ লেখা থাকে, তবে তা শুধু একটি ভবনের নয়, আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ধূমপানের আড্ডাখানা নয়; এটি জাতির বিবেক গড়ার পবিত্র প্রাঙ্গণ। এই মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।




