নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও বাস্তবায়ন পর্যাপ্ত নয়—এমন অভিযোগ তুলে নেওয়া এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নরওয়েসহ একাধিক দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (USTR) জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে তেল-গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, সমালোচনামূলক খনিজ এবং কয়েকটি বিশেষ খাত এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনামসহ আরও ৩৮টি দেশ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকেও একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যে সমতা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে একাধিক দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রে ইউরোপের মান অত্যন্ত উচ্চ। তাই এই শুল্ক আরোপের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল সিদ্ধান্তটিকে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। নরওয়েও বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কানাডা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে।-
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের “রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ” বাতিল করার পর নতুন আইনি ভিত্তিতে এই শুল্ক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আদালতে এটি চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধকে বাণিজ্যনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে।
সূত্র : রয়টাস্




