‘অনৈতিক জোট’ হলে ১০৮ বিধায়কের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি বিজয়ের দলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সরকার গঠনকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপাতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ঘোষণা দিয়েছে, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে ‘অনৈতিকভাবে’ সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৮ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর এ অবস্থানের কথা জানানো হয়।
এর আগে বুধবার সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন টিভিকে প্রধান বিজয়। তবে রাজ্যপালের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় কার্যত দলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭।
অন্যদিকে ডিএমকে–কংগ্রেস–বাম জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন। এর মধ্যে ডিএমকে এককভাবে ৫৯টি আসনে জয়ী হলেও দলটির প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। জোটসঙ্গী কংগ্রেস পেয়েছে পাঁচটি আসন।
এআইএডিএমকে–বিজেপি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাদি কে পলানীস্বামীর দল এআইএডিএমকে জিতেছে ৪৭টি আসনে। বিজেপি পেয়েছে একটি আসন এবং জোটসঙ্গী পিএমকে চারটি আসনে জয়ী হয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সরকার গঠন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে ক্ষমতায় যেতে সমঝোতায় যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এ পরিস্থিতিতে টিভিকে নেতৃত্ব দাবি করছে, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ জনগণের রায়ের পরিপন্থী হবে বলে তারা মনে করছে।
এদিকে কংগ্রেস ইতিমধ্যে বিজয়ের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে রাজ্যপাল বিশ্বনাথ আরলেকর জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র ছাড়া টিভিকেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যার হিসাবের পাশাপাশি এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জোট–সমীকরণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ফলে শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ঢাকানিউজ/নাজ/২৪



