ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedদুর্গাপূজায় মণ্ডপের নিরাপত্তা: ডিসি ফরিদা খানম

দুর্গাপূজায় মণ্ডপের নিরাপত্তা: ডিসি ফরিদা খানম

নিউজ ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন তিনি। পরে জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

ডিসি বলেন, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই গুজবের উৎস শনাক্ত করে তা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)।

সভায় জানানো হয়, এবার সাভার উপজেলায় মোট ২৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভায় ৪৫টি, শিমুলিয়ায় ৪০টি, পাথালিয়ায় ৩০টি, তেতুলঝোড়ায় ২৬টি এবং ভাকুর্তায় ২২টি মণ্ডপ রয়েছে। ফরিদা খানম বলেন, প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী থাকতে হবে। পর্যাপ্ত নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার পাশাপাশি পূজা কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর প্রশাসনের কাছে সংরক্ষণ ও জরুরি যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় রাখতে হবে।

ফায়ার সেফটির বিষয়ে প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলো, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

গুজব প্রতিরোধে ডিসি বলেন, যাচাই না করে কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে এর উৎস শনাক্ত করে আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই চেতনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় মাইক ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

ডিসি জানান, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া থেকেই পূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো ঝুঁকি দেখা দিলেই প্রশাসনকে জানানোর জন্য পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular