ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডপ্যাথলজি রিপোর্টে বিএমডিসির নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষরের শর্ত বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

প্যাথলজি রিপোর্টে বিএমডিসির নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষরের শর্ত বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

সুমন দত্ত: রোগীর প্যাথলজি রিপোর্টে শুধু বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত চিকিৎসকের একক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কে অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়েছেন ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা। তারা বিষয়টি কে স্বাস্থ্যখাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশে ল্যাব ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সেবায় মারাত্মক সংকট তৈরি হবে এবং রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (বিএসিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে বায়োকেমিস্টরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর দিয়ে আসছেন। হঠাৎ করে কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হলে দেশে চলমান হাজার হাজার ল্যাবে স্বাক্ষরকারীর তীব্র সংকট দেখা দেবে। এতে রিপোর্ট সরবরাহে বিলম্ব হবে, অনেক ল্যাব কার্যত অচল হয়ে পড়বে এবং সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

বিএসিবির আহ্বায়ক ও প্রভা হেলথের ল্যাব ডিরেক্টর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে গত ৫ ও ৭ জানুয়ারি জারিকৃত জরুরি নির্দেশনার ৫ নম্বর ইস্যুতে রিপোর্ট স্বাক্ষরকারীদের বিএমডিসি নিবন্ধিত মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে—এমন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক, অবৈজ্ঞানিক এবং ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে হিস্টোপ্যাথোলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথোলজিস্ট এবং মেডিকেল ও ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টরা নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত জাতীয় চর্চা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশেও চিকিৎসকদের পাশাপাশি বায়োকেমিস্ট ও ল্যাব বিশেষজ্ঞরা রিপোর্টে স্বাক্ষর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত প্রায় ২৬ হাজার প্যাথলজি ল্যাবের বড় অংশের বায়োকেমিস্ট্রি ও ইমিউনোলজি বিভাগ নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক প্যাথলজিস্ট দিয়ে এই বিশাল চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব। এর ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল ও বিলম্ব বাড়বে, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধান অতিথি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন মোহাম্মদ শেখর বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন বিশেষ করে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২—এ ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার বাতিল করে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য তা নির্ধারণ করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সঠিক ও সময়োপযোগী রোগ নির্ণয় সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্দেশনার ৫ নম্বর ইস্যু অবিলম্বে বাতিল বা সংশোধন, নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্ট স্বাক্ষরের অধিকার বহাল, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কম্পিটেন্সি-ভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের জন্য পৃথক কাউন্সিল গঠন এবং পেশাগত বৈষম্য পরিহার। বায়োকেমিস্টরা জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশনা বাতিল না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

At least 60 people killed in gold mine collapse in Sudan

US officials met Iran-backed Houthis in Oman