নিউজ ডেস্ক: গত ১১ ও ১২ ই অক্টোবর,২০২৫ দুইদিনব্যাপী সাহিত্যপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে সমাপ্ত হলো আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব (এআইএলএফ)-এর ঐতিহাসিক ১০ম সংস্করণ,যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সাহিত্য ও চলচ্চিত্র”।উৎসবে ভারতের ও বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক উমাশঙ্কর যাদব গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৬ সালে সূচনা হওয়া এই উৎসব আজ এক বিশাল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীলতার এক অনন্য সেতুবন্ধন।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক রঘুবীর চৌধুরী, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জমনাদাস (জে.ডি.) মাজেঠিয়া, অভিনেতা মুশতাক খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কস্টিউম ডিজাইনার পিয়া বেনেগাল, লেখিকা শোভা অকসর, গুজরাটি চলচ্চিত্রের নায়ক হিতেন কুমার। আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিসিআর আহমেদাবাদ এর সাব জোনাল এর সম্মানিত পরিচালক শ্রী সুভাষ সিং, কবি ও পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত তুষার শুক্লা, সংগীত পরিচালক অরবিন্দ ভেগদা, স্ক্রিনরাইটার স্নেহল চৌধুরী, লেখক উৎকর্ষ পাটেল, অধ্যাপক ড. রাজেশ চন্দওয়ানি এবং আরও নানা সম্মানিত অতিথিবৃন্দ।
উৎসবের প্রথম দিনে সিরিন ফিল্মস এর নতুন হিন্দি চলচ্চিত্র “ড্রপ আউট” এর ট্রেলার লঞ্চ ছিল অন্যতম আকর্ষণ। নির্মাতা ও অভিনেতা উমাশঙ্কর যাদব, পরিচালক ওমকার পেঠকার, অভিনেত্রী তনুশ্কা শর্মা, উদয় সিংহ, মুশতাক খান সহ পুরো টিম উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তরা উৎসবে অনন্য মাত্রা যোগ করেন। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী অভ্র বড়ুয়া’র নিবেদনে পরিবেশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা “এট দি লাস্ট ওয়াচ” এর আবেগঘন আবৃত্তি এর মনোমুগ্ধকর নিবেদন দর্শকরা করতালির মধ্যে দিয়ে প্রশংসা করেন। সেই সাথে অনুরূপা ত্রিপুরা ও সাংচি ক্লারা পরিবেশন করেন মনোমুগ্ধকর বাংলার লোকনৃত্য, যা উপস্থিত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
গুজরাট ট্যুরিজম এর পৃষ্ঠপোষকতা ও আইসিসিআর-এর সাংস্কৃতিক সহায়তায় অনুষ্ঠিত এই উৎসবে ৭টি আন্তর্জাতিক দেশের (বাংলাদেশ,আফগানিস্তান, ব্রাজিল, উগান্ডা, আজারবাইজান, মালাভি, মাদাগাস্কার ও মিয়ানমার) প্রতিনিধি, ১২টিরও বেশি আলোচনাসভা, শিশু সাহিত্য পাঠ, এবং কবিতা, সংগীত, নাট্য ও চলচ্চিত্রভিত্তিক পরিবেশনা ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
উৎসব শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন সাহিত্য ও সিনেমার এই বন্ধন কেবল এক উৎসব নয়, এটি এক নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূচনা।



