ঢাকা  রবিবার, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতায় জোর

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতায় জোর

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা, মাদক প্রতিরোধ, পুলিশি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি। বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় দেশ এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (CNIC) পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তানের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতারও প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের তৎকালীন সিনিয়র সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির সেফ সিটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। উভয় পক্ষ পুলিশি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়েও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠকের শেষদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে তিনি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন।-

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। নিরাপত্তা, মাদক দমন, পুলিশি প্রশিক্ষণ, নগর নিরাপত্তা ও মানবিক ইস্যুতে এই ধরনের নিয়মিত বৈঠক ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular