ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবাগদাফার্মের পৈত্রিক জমি ফেরত চান সাওতালরা

বাগদাফার্মের পৈত্রিক জমি ফেরত চান সাওতালরা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় প্রস্তাবিত ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণার প্রতিবাদে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জাতীয় পতাকা হাতে আদিবাসীদের রোড মার্চ ও সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাহেবগঞ্জ কাটাবাড়ি এলাকা থেকে শুরু হয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে বিকেল সাড়ে ৫ টায় শেষ হয় এই রোড মার্চ। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সম্পাদক আনিছুর রহমান ময়নুল, গাইবান্ধা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, ঘোড়াঘাট উপজেলা আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি লুইস মুর্মুসহ আরও অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের ১৮৪২.৩০ একর জমি সিএস রেকর্ডভুক্ত আদিবাসীদের পৈত্রিক সম্পত্তি। ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার এই জমি মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের জন্য আখ চাষের উদ্দেশ্যে রিকুইজিশন করে। রিকুইজিশনের চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, আখ চাষ না হলে উক্ত জমি খেসারত সহ পূর্ব মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু ২০০৪ সালে সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও জমি ফেরত না দিয়ে তা প্রভাবশালীদের নামে লীজ দেওয়া হয়। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে আদিবাসী সাঁওতাল ও স্থানীয় বাঙালিরা প্রতিবাদ গড়ে তুললে ২০১৬ সালে পুলিশ ও সশস্ত্র দলে এক হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের গুলিতে ৩ জন সাঁওতাল নিহত হন। পাশাপাশি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ২৬ মার্চ ২০২৫ সালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বাগদা ফার্ম এলাকায় ইপিজেড করার ঘোষণা দেন, যা তিন ফসলি জমি ও আদিবাসীদের পৈত্রিক জমির উপর আঘাত হিসেবে দেখা হয়েছে।

এছাড়া সমাবেশে বাগদাফার্মের জমি আদিবাসীদের ফেরত, তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল ও ২০১৬ সালের সাঁওতাল হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী জানান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular