ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডবিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে মুখস্থনির্ভর ও সার্টিফিকেটকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রধান নিয়ামক। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে এবং কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডাটা সায়েন্স, বায়োলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয়ে জ্ঞানের সীমানা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি।

উচ্চশিক্ষা খাতে বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের অভাবই শিক্ষিত বেকারত্বের অন্যতম কারণ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগীয় শহরভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্যাম্পাসভিত্তিক ইনোভেটিভ আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন ইনস্টিটিউট, সায়েন্স পার্ক, বিজ্ঞান মেলা ও প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারের মতো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

উদাহরণ হিসেবে উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান নিজে উৎপাদন না করেও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (এলামনাই) সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ এবং এলামনাই তার মেরুদণ্ড।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ইউজিসি সচিব ফখরুল ইসলাম।

ঢাকানিউজ/নাজ/24

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular