ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাবেলজিয়ামকে রুখে দেওয়া ইরানি গোলকিপার

বেলজিয়ামকে রুখে দেওয়া ইরানি গোলকিপার

ক্রীড়া ডেস্ক: লস অ্যাঞ্জেলেসে তখন কেভিন ডি ব্রুইনাি ও লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দদের একের পর এক আক্রমণের সুনামি। বেলজিয়ামের একের পর এক বুলেট গতির শট আছড়ে পড়ছিল ইরানের বক্সে। ম্যাচটিতে ২৩টি শট নেয় বেলজিয়াম, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু সেই ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডদের মুখে হতাশার ছাপ। কারণ, গোলপোস্টের নিচে একাই মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এক ‘দানব’। তিনি আলিরেজা বেইরানভান্দ।

সাতটি সেভ করে বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তবে বিশ্বমঞ্চের এই আলো ঝলমলে নায়কের অতীত রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের এক যাযাবর কুর্দি রাখাল পরিবারে জন্ম আলিরেজার। ছোটবেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে পশুপালনের কাজ করা সেই অবহেলিত রাখাল ছেলেই আজ ইরানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের পর এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

বিশ্বমঞ্চে আলিরেজার এমন বাজপাখি রূপ অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন অবধারিত গোলের অপেক্ষায়, তখন অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সিআরসেভেনের সেই পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন আলিরেজা। তার সেই ঐতিহাসিক সেভের ওপর ভর করেই পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল ইরান।

শুধু পেনাল্টি সেভ বা গোলপোস্ট পাহারাই নয়, আলিরেজার হাত ও পায়ের শক্তিও এক বিস্ময়। দূরপাল্লার থ্রো ও কিকের কারণে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দুটি বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তার নামে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ফুটবলে হাত দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরে (২০০.১৪ ফুট) বল ছোড়ার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে দীর্ঘ ড্রপ-কিকের (২৫৫.৯৫ ফুট) বিশ্বরেকর্ডটিও এই ইরানি তারকার দখলে।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে আজ সাতটি সেভ করলেও দেশটির ফুটবল সংস্কৃতির নাড়িনক্ষত্র আলিরেজার বেশ ভালোই জানা। কারণ, ঘরোয়া ফুটবলে ইরানের ক্লাব ট্র্যাক্টরের হয়ে খেললেও ক্যারিয়ারের একটা বড় সময় তিনি কাটিয়েছেন ইউরোপে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের ক্লাব রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের জার্সি গায়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে বেলজিয়ান কাপ জেতার স্বাদও পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া পর্তুগালের বোয়াভিস্তা ও ইরানের বিখ্যাত ক্লাব পার্সপোলিসের হয়েও মাঠ কাঁপিয়েছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে ৮৩টি ম্যাচ খেলা এই তারকা ইরানের ঘরোয়া লিগে টানা চার মৌসুম সেরা গোলরক্ষক এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। এমনকি ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া ইতিহাসের প্রথম ইরানি ফুটবলারও তিনি। বেলজিয়ামকে আটকে দিয়ে ইরান যে নকআউটের স্বপ্ন দেখছে, তার নেপথ্য কারিগর যে এই ‘রাখাল ছেলে’ আলিরেজাই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular