পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রত্যন্ত গ্রামে একটি কারখানায় ক্ষতিকর বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে দুধ তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন বন্ধ করে দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আবারও মানুষের জন্য ক্ষতিকর দুধ তৈরি কারখানাটি চালু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এব্যাপারে অবগত নয় বলে তারা জানিয়েছেন। এ যেন দেখার কেউ নেই।
উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ছোট বিশাকোল গ্রামে একটি দুগ্ধ চিলিং সেন্টার থেকে নকল দুধ তৈরি কারখানা সন্ধান মিলে।
প্রশাসন বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর উপাদান জব্দ করে দুধের কারখানাটি সীলগালা করা হয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বৃহস্পতিবার কারখানাটি আবার চালু করা হয়েছে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গুড়া সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন আল-আমিন খাঁনের নেতৃত্বে ১৫ জন সেনা সদস্য এ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের একটি দল তাদের সহায়তা করেন।
অভিযানকালে ‘এন কে ডেইরী ফার্ম’ নামের ওই দুগ্ধ চিলিং সেন্টার থেকে পাঁচ লিটারের ২৭ বোতল ও দুই লিটারের ৯ বোতল সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা, ১ বস্তা চিনি, খারসোডা ও লবণ জব্দ করা হয়। যা দিয়ে নকল দুধ প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী কারখানাটি সীলগালা করে। সেইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারখানাটি যাতে খোলা না হয় সেজন্য সতর্ক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কারখানাটি খুলে আবার কাজ শুরু করেছেন। সেখানে কোন সিলগালা বা বিধি নিষেধ আছে এমন কোন কিছু তাদের কার্যক্রমে প্রকাশ পায়নি।
ওই কারখানার শ্রমিক বলেন, দুধে কারখানায় সেনাবাহিনী পুলিশ এসেছিলেন। তবে তাদের সাথে ম্যানেজারের কি কথা হয়েছে তা তিনি জানেন না।
ছোট বিশাকোল গ্রামের আব্দুস সামাদ বলেন, কারখানায় নকল দুধ তৈরি হয় প্রমাণ পাওয়ার পরও কিভাবে আবার চালু হলো তা কারো বোধগম নয়।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম ঐ কারখানায় অভিযানের কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে যা কিছু করেছে সেনাবাহিনী, তারা কেবল সহায়তা করেছেন।
সেনা কমানডার ক্যাপ্টেন আল আমিন নকল দুধের কারখানায় অভিযানের কথা স্বীকার করে জানান, বন্ধের পর উহা আবার কিভাবে খোলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ব্যাাপারে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপে জানা গেছে, তৃতীয় পক্ষের কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কারখানার মালিককে আশ্বস্ত করায় বৃহস্পতিবার থেকে আবার দুধ তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। তখন সেনা কমান্ডার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি সীলগালার পরমর্শ দেন। পরে কারখানাটি খোলা হয়ে থাকলে সেনাবাহিনী তাকে কিছু জানায়নি বা কারখানার মালিকও তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি ।
এ ব্যাপারে কারখানার মালিক স্ঞ্জয় কুমারের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কানেক্ট করা যায়নি।



