অর্থনীতি ডেস্ক: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই গত মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দিয়েছে সে দেশের সরকার। দীর্ঘ চার বছর পর এই শ্রমবাজারটি খোলার খবর বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ। তবে দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য।
অভিবাসন খরচ কমানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নিয়েই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাহিদাপত্র সত্যায়ন শুরু হয়ে গেছে। এতে মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিবাসন খরচের ব্যাপারে সরকার এখনো কিছু জানায়নি।
মালয়েশিয়া থেকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য গত মাসেই ২২টি কোম্পানির চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য জমা পড়ে।
প্রথমেই সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদাপত্রে ২৮ বাংলাদেশির জন্য সত্যায়ন সম্পন্ন হয়। এখন পর্যন্ত ছয় হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও চাহিদাপত্র জমা পড়ছে। এসব চাহিদাপত্রের সবগুলোই বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি এনেছে।
বাংলাদেশি কর্মী নিতে ইতোমধ্যে ৩৫০টি কোম্পানির চাহিদাপত্র সে দেশের মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে সরকার প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে আজ যুক্ত হচ্ছে বোয়েসেল। কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য এই সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া হবে। এরপর বোয়েসেল চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে। কিন্তু বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও সত্যায়ন করে নিয়ে এলেও বোয়েসেল এখনো বাজারে নামেনি।
বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে আসা চাহিদাপত্র যাচাই প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র নিয়ে এসেছে। চলমান প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে যেসব চাহিদাপত্র আসছে, সেগুলো বাংলাদেশি হাইকমিশনের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী বিদেশে যাবেন, তাদের চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হবে–সবকিছু নিশ্চিত করেই পাঠানো হবে। এ বিষয়ে সরকার একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
তবে সরকারি এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ সফল হলে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের আর্থিক চাপ কমবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নিয়মিত কর্মী প্রেরণ চালু রাখার মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চালু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দেশটিতে কর্মী পাঠাতে আবারও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ফলে মালয়েশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমত, সরকার কর্মীপ্রতি অভিবাসন খরচ এখনো নির্ধারণ করে দেয়নি। এতে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ইচ্ছামতো অভিবাসন খরচ নিতে পারবে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। কারণ এই শ্রমবাজারটি সরকারের নয়, নিয়ন্ত্রণ করছে দুই দেশের যৌথ সিন্ডিকেট।




