নিউজ ডেস্ক: ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের সম্ভাব্য আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মেরামত ও পুনর্গঠনের কার্যক্রমের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) শর্ত লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়, ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (ISIS)–এর সহযোগিতায় বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর ওপর স্থায়ীভাবে মেরামতের প্রস্তুতি চলছে।
পারচিনে পুনর্নির্মাণের আলামত
প্রতিবেদনে ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের একটি স্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই এলাকায় অতীতে পারমাণবিক অস্ত্র-সংক্রান্ত বিস্ফোরক পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে হামলায় সৃষ্ট বড় গর্তগুলো প্রথমে অস্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া এবং পরে সেখানে জাল ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি কংক্রিট মিক্সার ট্রাকের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে।
সিএনএনের সাংবাদিক কেটি পোলগ্লেস বলেন, নতুন ছবিগুলো থেকে মনে হচ্ছে, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গর্তগুলো কংক্রিট দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রস্তুতি চলছে।
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাতেও সন্দেহজনক তৎপরতা
প্রতিবেদনে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain) নামে পরিচিত একটি ভূগর্ভস্থ সন্দেহভাজন পরমাণু স্থাপনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে ওই স্থাপনার টানেলে যানবাহনের চলাচল এবং নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।
সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিশ্লেষকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা অনুযায়ী তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘স্থিতাবস্থা’ (status quo) বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ফলে নতুন নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম সেই সমঝোতার পরিপন্থী হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতাকে ‘শেষ’ ঘোষণা করার আগেই এসব কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) থেকেও এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।-
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব কার্যক্রম সত্যিই সমঝোতা স্মারকের শর্তের পরিপন্থী হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন




