নিউজ ডেস্ক: যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি ৪৩৬) একটি উড়োজাহাজ। উড্ডয়নের পর কোনো কারণে পাইলটের আশঙ্কা হয়, অবতরণের সময় উড়োজাহাজটির চাকা বা ল্যান্ডিং গিয়ার নামবে না।
এ অবস্থায় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে অনুযায়ী ঢাকায় জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় রানওয়ে। নেওয়া হয় অন্যান্য প্রস্তুতিও। তবে শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিরাপদে অবতরণ করে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কক্সবাজার থেকে আসা বিমানের ওই ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করলেও জরুরি প্রস্তুতির কারণে রানওয়ে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল।
এতে অবতরণের অপেক্ষায় একাধিক ফ্লাইট আকাশে অবস্থান করছিল। প্রায় ৪০ মিনিট পর রানওয়ে খুলে দেওয়া হলে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে আসা হিমালয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রথমে অবতরণ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ফ্লাইটগুলো অবতরণ শুরু করে।
তারা আরও জানান, কক্সবাজার থেকে আসা বিমানের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটি ঢাকার আকাশে প্রায় আধা ঘণ্টা চক্কর দিয়ে জ্বালানি কমিয়ে ওজন হ্রাস করার পর নিরাপদে অবতরণ করে।
উড়োজাহাজটিতে ৭৮ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন। তারা সবাই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। তবে উড়োজাহাজটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলাচলকারী ফ্লাইট বিজি ৪৩৬ শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টা ১০ মিনিটে ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ করেছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অনিবার্য অপারেশনাল ও কারিগরি কারণে ফ্লাইটটির সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট, প্রকৌশলী, গ্রাউন্ড অপারেশনস কর্মী ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। এতে সব যাত্রী ও ক্রু সদস্য কোনো সমস্যা ছাড়াই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান।
বিলম্বের কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত মান বজায় রাখার বিষয়ে সর্বোচ্চ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।




