আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলে গেছে। এতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার ২৬২-১৫০ ভোটে বিলটি পাস হয়। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে পরিচিত এই আইনের লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২২ সাল থেকে ছাড়মূল্যে রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত বর্তমানে রুশ জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। চীনের পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের একটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাঁরা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাসের বিষয়টি অবগত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, নতুন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে—এ বিষয়টি তারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনটির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিলটিতে অবশ্য এমন দেশকে ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে, যারা রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে। ফলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকতে পারে।
মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বিলটি পাসের পর চীন ও ভারতকে রুশ তেলের পরিবর্তে অন্য উৎস থেকে তেল-গ্যাস কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।




