লক্ষ্মীপুর জেলায় নাগরিক হয়রানি এড়াতে ও সেবায় গতিশীলতা আনতে লক্ষ্মীপুর পৌর সভার ৩৪টি অনলাইন সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার।
পৌরসভা সূত্র, এখন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর পৌরসভা থেকে বিতরণকৃত নাগরিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয়তা সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন প্রকারের সনদ অফলাইনে প্রদান করা হতো। এতে অনলাইন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিত। নতুন এই সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, একই নামের প্রত্যয়ন, বার্ষিক/মাসিক আয় সনদ, পারিবারিক সনদসহ মোট ৩৪টি সনদ অনলাইনে প্রদান করা হবে। এখন থেকে পৌরসভার যেকোনো নাগরিক Lakshmipur.paurasheba.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে যেকোনো সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর পৌর সভার প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল মোমিন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ ফারাভী, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জেডএম ফারুকী সহ পৌরশহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা।
লক্ষ্মীপুর পৌর সভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “আগে সব সনদ অফলাইনে দেওয়া হতো, যার ফলে অনলাইন ভেরিফিকেশনে জটিলতা দেখা দিত। নতুন এই সেবার মাধ্যমে এখন সব সনদ অনলাইনেই যাচাই-বাছাই ও গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”
এ সময় তিনি নাগরিক সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় বক্তারা জানান, পৌরসভা থেকে বিতরনকৃত নাগরিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয়তা সনদ, প্রত্যয়ন পত্রসহ বিভিন্ন প্রকারের সনদ এখন পর্যন্ত অফলাইনে দেয়া হতো। এতে করে অনলাইন ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতো সেবাগ্রহীতাদের। নতুন এ অনলাইন সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় সনদ অনলাইনে ভেরিফিকেশন ও দেয়া সম্ভব হবে। এতে করে হয়রানি কমবে পৌরসভার নাগরিকদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। আমরা আশা করি, এই সেবার মাধ্যমে পৌরবাসীরা যথাযথ ও সময়োপযোগী সেবা পাবেন এবং এটি পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত হবে।”
পরে অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আবেদন করে উপকারভোগীদের হাতে জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা সনদ হস্তান্তর করেন।



