নিউজ ডেস্ক : আগামী ২০৭০ সাল নাগাদ বছরে অন্তত ১ কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
পরিকল্পনার আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাড়ানো হবে উড়োজাহাজের পার্কিং স্পেস। তবে ২০২৫ সালে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত এগিয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।
ছয় বছর আগেই ফ্লাইট ওঠানামা ও যাত্রী পরিবহনের নির্ধারিত সক্ষমতা অতিক্রম করেছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর। ২৬ বছর আগে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ নেয় এটি। এরপর বিমানবন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তুলতে একের পর এক পরিকল্পনা নেয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ২০ বছর আগে যে ব্যবস্থা ছিল, এখন তা অনেক আধুনিক হয়েছে। রাডার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ স্থাপনাগুলোও আধুনিক করা প্রয়োজন। স্ক্যানার মেশিনের সক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বোর্ডিং ব্রিজও নেই।
নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৮ হাজার আন্তর্জাতিক ও ১২ হাজার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করে। যাত্রী পরিবহন হয় ১৫ থেকে ১৬ লাখ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতোই ট্যারিফ আদায় করা হলেও শাহ আমানতে সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নেই। এখনো চালু হয়নি স্বতন্ত্র কার্গো ভিলেজ।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ট্যারিফ একই। ফলে কোনো এয়ারলাইনস চট্টগ্রামে আসতে আগ্রহী হয় না। অথচ কার্গো ভিলেজসহ বিদ্যমান সুবিধাগুলো পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম আরও বাড়ানো সম্ভব। ট্যারিফ কমিয়ে এয়ারলাইনস আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী তিনটি পর্যায়ে আগামী ৪৪ বছরে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ১ কোটিতে উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পরবর্তী ১৫ বছরে আরও ২০ লাখ যাত্রী বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষ ২০৭০ সালে আরও ৩০ লাখ যাত্রী যুক্ত করে মোট সক্ষমতা ১ কোটিতে নেয়া হবে।
বন্দর পরিচালকের দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পরবর্তী ৫০ বছর অর্থাৎ ২১২০ সাল পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো মাস্টারপ্ল্যানের প্রয়োজন হবে না। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, জার্মান একটি প্রতিষ্ঠান মাস্টারপ্ল্যানটি তৈরি করছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ায় এ কাজে গতি আসবে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে।
শুধু দেশীয় কিংবা বাজেট এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভর না করে বড় এয়ারলাইনসগুলোকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ ব্যবসায়ীদের। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, কম ভাড়ার বাজেট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ে পরিচালনার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে বিজনেস ক্লাসে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরের মতো পরিকল্পিতভাবে এসব বিষয় বিবেচনা করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নতুন করে তৈরি করা হবে অ্যারাইভাল ও ডিপারচার লাউঞ্জ। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে একাধিক বোর্ডিং ব্রিজ। ভূপ্রকৃতিগত অবস্থানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বন্দরনগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। তাই শাহ আমানত বিমানবন্দরের মাস্টারপ্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা গেলে চট্টগ্রাম প্রকৃত অর্থেই একটি পূর্ণাঙ্গ বন্দরনগরী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



