ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeরাজনীতিশিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য

প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী, প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভুয়া তথ্য, পুরোনো ছবি ও এআই–নির্মিত ছবির সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের নকল ফটোকার্ডও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
 

এবার বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অন্য বোর্ডে চলছিল। এরই মধ্যে ১৩ জুলাই প্রবল বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। সেদিন পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকায় তা নিয়েও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের মুখে ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা শুনে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সড়কে বিক্ষোভে নামেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে একদল শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের হটিয়ে দেয়।

এই তথ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন আসছে; তার সঙ্গে এমন খবরও ছড়াচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার। ভূয়া তথ্য

আন্দোলনের সময় একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দাবি করা হয়, আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরে হুমকি দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের এক নেতা। ভিডিওটির একটি মুহূর্ত এআই প্রযুক্তির সহায়তায় স্থিরচিত্রে রূপান্তর করে অসংখ্য পেজ ও প্রোফাইল থেকে ছড়ানো হচ্ছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। প্রশ্নপত্রে দুটি ভুল প্রশ্ন, অতি বর্ষণের মধ্যেও অনেক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা—এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
 
বিশেষ করে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী দুর্ভোগ পোহান; কারও প্রবেশপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে, অনেকে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
 
এআই প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার করে কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করা ও ব্যবহার করার প্রবণতা দেশকে আবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে বলে সচেতন অভিভাবকেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
 
তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যপ্রমাণ এবং আইনের ভিত্তিতেই খুঁজে বের করার দাবি করছেন।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular