মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেঁকে বসছে শীত। কমতে থাকা তাপমাত্রা জানান দিচ্ছে হেমন্তের বিদায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ থাকলেও সন্ধ্যার পর বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা। রাতে তাপমাত্রা আরও কমে যায়।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালটা ছিল পাখির খোঁজে হাওরের একেবারে শেষ সীমানায়। ঘড়ির কাটা তখন ৬টায় কুয়াশার চাদর ঘিরে ছিল হাওরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে চায়ের রাজধানীখ্যাত দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গলে।
এর আগে শনিবার ও রোববার এবং সোমবার শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হঠাৎ ঠাণ্ডা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষসহ চা-বাগান এলাকার বাসিন্দাদের। শীতজনিত রোগে প্রতিদিন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ভীর প্রতিদিন ভাড়ছে।
সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শীতে সবচেয়ে বেশী ছিন্নমূল ও দিনমজুররা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই কাজের সন্ধানে গিয়ে কাজ পাচ্ছেননা। এ ছাড়াও হাওর পাড়ের মানুষ, বোরো চাষী ও চা বাগানের শ্রমিকরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনে ও রাতে অনেকেই খড়খুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। রাতভর পড়া কুয়াশায় ভিজে গেছে পিচঢালা রাস্তা।
গাছের পাতা, ফসলের খেত আর ঘাসের ওপর থেকে টপটপ করে পড়ছে শিশিরবিন্দু। কুয়াশার কারণে সকালে সড়কের যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কুয়াশার মধ্যেই গায়ে শীতের কাপড় জড়িয়ে কর্মজীবী মানুষ ছুটছে কাজের সন্ধানে।
এদিকে তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে ঠান্ডাজনিত রোগ-সর্দি, জ্বর,কাশি অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হওয়ার পাওয়া গেছে।
শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরম অনুভূত হলেও ভোর রাতে ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে। ভোররাতে চাদর বা কাঁথা গায়ে দিতে হচ্ছে। রাতের বেলায় কুয়াশা ঝরছে এবং সকালের দিকে ধানের পাতায় কুয়াশার আস্তরণ দেখা যাচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, দিনে গরম অনুভূত হলেও রাতে ঠিকই ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। আর সকাল-সন্ধ্যা ঘাসের ওপর মুক্তার মতো শিশির কনার দেখা মিলছে। ভোরের প্রকৃতিতে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব থাকে।
রিকশা চালক হৃদয় বলেন, রাতে শীতে ঘুমাতেও পারিনি। এখন সকাল সকাল উঠে কাজে বের না হলে পেটেও কিছু পড়বে না। বাধ্য হয়েই কাজে বের হইছি। এখনই হাত পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। ভ্যান গাড়িতে শীতের কাপড় বিক্রি করেন হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, কনকনে শীতে আমি ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। ভ্যান না বের করলে খাবো কী, পেটের টানে বাধ্য হয়ে বসেছি। শীত বাড়লে বিক্রি বাড়ে, তাই এই শীতেও আমি ভ্যান নিয়ে ঘুরছি বসছি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৬টা এবং ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ‘চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এখন শ্রীমঙ্গলে। আকাশের মেঘ কেটে গেলে এখানে শীতের তিব্রতা আরো বাড়বে। তখন ঝেঁকে বসবে শীত। বর্তমানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আকাশে হালকা কুয়াশা বিরাজ করছে। এই কুয়াশা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটে যাবে। এখন থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে তাপমাত্রা। তখন শীত বেশি অনুভূত হবে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আরো জানায়, আগামী তিন দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। তবে রাত ও দিনে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।এ অঞ্চলে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। এ অবস্থা চলতে থাকবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। অতীত রেকর্ড অনুযায়ী তা আরও নিচে নামতে পারে তাপমাত্র।



