ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

নিউজ ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির কোনোটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ জানান, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকার বন্ধুত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ফলে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি ও ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০১টি চুক্তি বিশেষভাবে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। পর্যালোচনার পর কোন চুক্তি বহাল থাকবে, কোনটিতে পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে কিংবা কোনো চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন আছে কি না—সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে বন্দরে এলে বন্ধুদেশের জাহাজ আগে খালাসের সুযোগ দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও আগের সরকারের সময়ে করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হওয়া এ ধরনের ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। তবে এ বক্তব্যের আলোকে কোন নির্দিষ্ট চুক্তির কোন ধারা সংশোধন বা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে চায়—এ কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থও রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তাঁর বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চিফ হুইপের বক্তব্যে এ বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণাটি এখন পর্যন্ত একটি সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিফ হুইপের বক্তব্যে সব চুক্তিকে বাতিল করার কথা বলা হয়নি। বরং বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।-

এ ধরনের পর্যালোচনায় সাধারণত চুক্তির অর্থনৈতিক প্রভাব, বাণিজ্যিক সুবিধা, যোগাযোগ ও বন্দর ব্যবহার, নিরাপত্তা, পানি ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মতো দিকগুলো বিবেচনায় আসতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

চিফ হুইপ জানিয়েছেন, পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এখন নজর থাকবে—১০১টি চুক্তির মধ্যে কোনগুলো নিয়ে সরকার আপত্তি তুলছে, কোনগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং কোনগুলো বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হচ্ছে।-

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে চুক্তিগুলোর এই পর্যালোচনা তাই কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চুক্তিকে বাতিল বা দেশের স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন হবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular