নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসাধীন কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী আহত সেনা কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আহত কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাঁদের সাহস ও সান্ত্বনা দেন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সিএমএইচ পরিদর্শন এবং আহত সেনা কর্মকর্তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আহত কর্মকর্তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।-
ফিল্ড ফায়ারিং সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে হাটহাজারীর এই দুর্ঘটনা সেই প্রশিক্ষণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি বিষয় ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার গুরুত্ব আরও সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।



