ভেঙে গেছে খুঁটি, বিকল ট্রান্সফরমার; প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা : কালবৈশাখী ঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টিতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে চান্দিনাসহ দেবীদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
চান্দিনাস্থ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীনে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টানা প্রায় ৮ ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগ সচল করে চান্দিনা বাজার এলাকায় সীমিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হলেও পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে আছে, কোথাও তার ছিঁড়ে রাস্তায় ঝুলে আছে, আবার কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় ঘরের বিদ্যুৎ মিটার পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়।
চান্দিনা পৌর এলাকার বাসিন্দা তানজির ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছরে এমন ভয়াবহ ঝড় দেখিনি। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ ছিল, পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।”
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাসেদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ে আমাদের বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর জাতীয় গ্রিডের সংযোগ সচল করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। আগামী ১-২ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। যেসব স্থানে বেশি ক্ষতি হয়েছে, সেখানে রাতভর কাজ করে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।”
তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।



