পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে চলতি মরশুমে আশানুরুপ আলু উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মাঝে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে । আলু বীজের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির কারনে কৃষকদের এ আশংকা । ফলে জমি তৈরি করেও পর্যাপ্ত পুজিঁর অভাবে কৃষকেরা পর্যাপ্ত আলু বীজ রোপন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন । আর আলু বীজের এ মুল্য বৃদ্ধির কারন হিসেবে আলু ব্যবসায়ী ও বে-সরকারী পর্যায়ের আলু বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গুলিকে দায়ী করছেন কৃষকেরা ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের কৃষকেরা আমন চাষের পর পরই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজ চাষ করেন। এ সব ফসল উৎপাদনের পর উক্ত জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেন । তাই বর্তমান সময়ে আমন ধান কর্তনের পর কৃষকেরা জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন । চলতি মওসুমে পীরগঞ্জে এবারে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গুর্জিপাড়ার তোজাম্মেল, পার্বতীপুরের মজিদ, হাজীপুরের সোবহান, মরারপাড়ার হোসেন আলী সহ বেশ ক’জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা বিগত সময়ে ব্যাপক আলু চাষ করেছিলেন কিন্তু এবারে আলু বীজের ব্যাপক মুল্য বৃদ্ধির কারনে তা পারছেন না । তারা গতবারের চেয়ে অর্ধেক জমিতে আলু উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ।
নাম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পীরগঞ্জের একাধিক বীজ হিমাগার হিমাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, বীজ আলু হিমাগার থেকে ডিলারদের কাছে পাঠাচ্ছে কিন্তু ডিলারেরা কৌশলে বীজ আলুর মুল্য বৃদ্ধি করছেন । কৃষকরা সরাসরি বীজ পাচ্ছেন না। টুকুরিয়া ইউনিয়নের চাষী শফিকুল ইসলাম বলেন, আলুর জায়গায় আলু বীজের সংকট আর চড়া মুল্যে মনে হয়, যেন ‘আড়তেই ঘি মঙ্গা!
এদিকে বীজ আলুর উর্ধ্ব মুল্য এবং সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকজ্জামান সরকার বলেন, ১ কেজি আলু উৎপাদনে ১০/১২ টাকা খরচ হওয়ায় কৃষকরা আলুতে মনোনিবেশ করেছে। তারা ভিত্তি বীজ, প্রত্যয়িত বীজ এবং মান ঘোষিত বীজ আলুর উপর বেশি নির্ভরশীল হচ্ছেন। কৃষকরা বীজ আলুর অতিরিক্ত মুল্যের কথা বললে আমরা ভোক্তা অধিকার এবং ইউএনও স্যারকে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।



