প্রায় ৫ কোটি টাকা পাওনার দাবি, টাকা না পেলে ভাটা চালু করতে দেবেন না পাওনাদাররা
নাজমুল হোসেন: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রস্তুত করা হচ্ছে মিল্লাত নামে একটি ইটভাটা। এটি আগে সোনালী ব্রিকস নামে পরিচালিত হতো। এদিকে, আগের মালিকের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শতাধিক পাওনাদার। তাদের হুঁশিয়ারি, পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ইটভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে ইটভাটার সামনে চেক ও পাওনার কাগজপত্র নিয়ে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা।
পাওনাদারদের দাবি, সাবেক সোনালী ব্রিকসের মালিক ফারুকী আজমের কাছে প্রায় এক হাজার মানুষের ৫ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইটভাটা ও সেখানে থাকা মাটির স্তূপ বিক্রি বা অন্যভাবে সরিয়ে ফেলা হলে পাওনা টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তারা জানান, ইজারা নেওয়া জমিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইটভাটা পরিচালনার চুক্তি রয়েছে। এখন নতুন করে ভাটা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। পাওনা টাকা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
এ বিষয়ে সোনালী ব্রিকসের সাবেক স্বত্বাধিকারী ফারুকী আজম বলেন, তিনি অনেক টাকা দেনা রয়েছেন। ইটভাটাটি ভাড়া জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকে বন্ধক রাখা তাঁর কিছু জমি নিলামে বিক্রি হলেও প্রতিষ্ঠানটি নিলামে দেওয়া হয়নি। একটি চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মিল্লাত ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, তিনি ভাড়া নিয়ে ইটভাটাটি প্রস্তুত করছেন। আগের মালিকের সঙ্গে পাওনাদারদের লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের আবেদন বাতিল হওয়ায় তিনি আপিল করবেন। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা প্রস্তুতের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর অর রশিদ পাঠান জানান, মিল্লাত নামে ইটভাটাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। সেখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটার প্রস্তুতির কাজ চলছে। খবর পেয়ে কয়েকবার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও তারা নির্দেশনা মানছে না। ইটভাটা প্রস্তুতের কোনো অনুমতি প্রশাসন দেয়নি।



