ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সুনসান নীরবতা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সুনসান নীরবতা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যাম্পাসজুড়ে আজ সোমবারও সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক ভবনের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও নিয়োগ পরীক্ষা যথারীতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ২৭ হাজার ৫৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংঘর্ষের পর গতকাল রোববার ক্লাস কার্যত হয়নি, সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। যদিও নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গতকালের পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের বাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন যথারীতি চলছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ক্লাস হবে কি না, তা শিগগিরই জানানো হবে।

আজ সকালে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, গোল চত্বর, শহীদ মিনার ও ২ নম্বর গেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকা এসব জায়গা এখন প্রায় ফাঁকা। কেবল দু-একজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাস এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বাহন শাটল ট্রেন স্বাভাবিক নিয়মে চলছে।

গত শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থী বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এর মধ্যে একজন আইসিইউতে রয়েছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে সমকালের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাসহ ছয় সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক সিফাত উল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এস এম মাহফুজুর রহমান এবং স্থানীয় একটি দৈনিকের ফটো সাংবাদিক। এ ছাড়া শারীরিকভাবে নাজেহাল ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন আরও কয়েকজন সংবাদকর্মী।

দুপুরে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে। রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়। ছবি: মো. রাশেদ
দুপুরে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে। রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়। ছবি: মো. রাশেদ

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল লাঠি, রড, পাইপ ও পাথর। অন্যদিকে গ্রামবাসী রামদা, রড ও লোহার পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে নামে। এতে পুরো জোবরা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকরা। আহত হন তাদের কেউ কেউ।

অন্যদিকে, সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওছার মোহাম্মদ হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশের জোবরা-ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে সমন্বিত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে চলা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular